পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন বাংলাদেশ এখন আর গরীব দেশ না। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছে আমরা নিম্নআয়ের দেশ থেকে নিম্ন মধ্য আয়ের দেশে উন্নিত হয়েছি। এটা হয়েছে আমাদের উন্নয়নের জন্য। আগামীতে আমরা মধ্যম আয় এবং উচ্চ আয়ের দেশে উন্নিত হতে কাজ করছি। গতকাল সময়ের কথা ম্যাগাজিনের আয়োজনে কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমাদের একটা লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তবে এই লক্ষ্যের সাথে একটি সঠিক নিয়ত থাকতে হবে। নিয়ত ঠিক তাকালে বাধা যতোই আসুক আমরা তাতে পৌঁছাতে পারবো। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘নিজেকে এখন গড়ে তোলার সময়। আমরা পরাজিত হতে পৃথিবীতে আসেনি। এসেছি বিজয়ী হয়ে পরকালের জন্য কিছু অর্জন করতে। সবাইকে শিক্ষিত হতে হবে। হকের পথে কথা বলতে হবে হক কাজ করতে। ভাল বন্ধু তৈরি করতে হবে।’তিনি বলেন, ‘যেকোন অর্জনের পেছনেই প্রেরণা থাকে। এই সংবর্ধনা তোমদের একটি প্রেরণা। জীবনের যেকোন উন্নয়নের জন্য নিজের মধ্যে দেশপ্রেম থাকতে হবে। সকল ক্ষেত্রে দেশের জন্য কিছু করার ইচ্ছা থাকতে হবে। দেশের জন্য করার মানসিকতা না থাকলে কারো জন্যই কিছু করা যায় না, এমনকি নিজের জন্যও না।’আইসিসি সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করেছিলাম দেশের সব মানুষের কথা বিবেচনা করে। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ সব মানুষ আমাকে সমর্থন করেছে। আর এই বিষয়টি আমাদের ক্রিকেটাররা বুঝতে পেরেছে। তারা যতদিন খেলবে ততোদিন এই স্মৃতি মনে রাখবে।’তিনি বলেন, মানুষের ইচ্ছা শক্তিই সব চেয়ে বড় ব্যাপার। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কয়েক পুরুষ স্টেশন চা বিক্রি করতো। মোদিও চা বিক্রি করতো। পাশাপাশি তিনি পড়ালেখা করে নিজেকে বদলে নিয়েছেন। তিনি আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশের প্রধানমন্ত্রী। একইভাবে উঠে এসেছেন ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিজ্ঞানী আবুল কালাম আজাদ। শিক্ষার্থীরা নিজেরা নিজ শক্তিতে এগিয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা করেন মন্ত্রী।সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি রেজাউর রহিম সোহাগ বলেন, আমাদের সমাজে অনেক অনুষ্ঠান হয়। ফিতা কেটে বিভিন্ন বিষয়ের উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেয়া হয় খুব কম। শিক্ষায় উন্নতি লাভ করতে হলে এ ধরনের অনুষ্ঠান বেশি বেশি করা দরকার।অনুষ্ঠানে ঢাকাস্থ নরসিংদীর বিভিন্ন স্কুল কলেজের অর্ধশত শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এছাড়াও কণ্ঠশিল্পী মেহরিন ও চিত্রনায়িকা অঞ্জনাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।সময়ের কথা ম্যাগাজিনের সম্পাদক রেহানুল ইসলাম ভূইয়া লেলিনে সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসার, আমিন জুয়েলার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সিরাজুল ইসলাম, পিআইবির সাবেক মহাপরিচালক বাংলাভিশনের উপদেষ্টা ড. আব্দুল হাই সিদ্দিক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হারুন উজ জামান ভূইয়া, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সাবেক উপদেষ্টা শাহ আলম সিদ্দকী, রোটারিয়ান মোমিন সরকার, জসিম উদ্দিন, সাজিদ হাসান সোহেল, ইকবাল খন্দকার প্রমুখ।সামাজিক উন্নয়নে শিক্ষার বিকল্প নেই অর্থনৈতিক রিপোর্টার জানান, পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল বলেছেন, সামাজিক উন্নয়ন সূচকগুলোতে ভালো অবস্থানে যেতে হলে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তাই আমরা এখন ৪টা প্রকল্প হাতে নিলে একটা থাকে শিক্ষা সংক্রান্ত। এছাড়াও সামাজিক উন্নয়ন সম্পর্কিত যেসব প্রকল্প হাতে নিয়েছি তা বাস্তবায়িত হলে শহর ও গ্রামের মধ্যে ব্যবধান কমে আসবে। কমে আসবে বৈষম্য।গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেপ এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক জরিপের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংক্রান্ত মোড়ক উন্মোচন সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন।মাল্টিপল ইনডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) শীর্ষক মোড়ক উন্মোচনকালে মন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের এখন লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে নি¤œ-মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা। আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হওয়া।তিনি বলেন, তবে আমাদের যেদিকে ঘাটতি রয়েছে তাহলো নিয়মিত পরিসংখ্যান জোগান দেয়ার ক্ষেত্রে। এমআইসিএস নিয়ে ২০১২-১৩ সালের পরিসংখ্যান আমরা এখন দিচ্ছি। এখন থেকে প্রতিবছরের পরিসংখ্যান প্রতিবছরই দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব আমরা।পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমরা মধ্যম আয়ের দেশের প্রথম বাধা পার হয়েছি ১ জুলাই। ২০২১ সালের আগেই মধ্যম আয়ের দেশের সনদ দেবে জাতিসংঘ। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিকভাবে আমরা এ অঞ্চলে এগিয়ে আছি। যদি সঠিক তথ্য না থাকে তাহলে কোনো দেশ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারবে না। এ তথ্যগুলো ল্যান্ডমার্ক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কানিজ ফাতেমা, ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি এডওয়ার্ড বেগবেদার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। -

Post A Comment: