বিতর্কিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য জানতে চেয়ে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসহ ২৪ দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ রোববার ওই সব প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরে এসব চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে দুদক সূত্র প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছে।
সূত্রটি জানিয়েছে, মুসার বাড়ি, গাড়ি, জমি, ফ্ল্যাট, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংকে জমানো টাকা, মেয়াদি আমানত, সঞ্চয়পত্র, বিমা, শেয়ারসহ অন্যান্য সম্পদের তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে চিঠিতে। চিঠি পাওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে ওই সব তথ্য দুদক কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।
একইভাবে সুইস ব্যাংকে রাখা অর্থের তথ্য আইনি মাধ্যমে জানতে শিগগির সুইজারল্যান্ড সরকারের কাছে এমএলএআর (মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসটেন্স রিকোয়েস্ট) পাঠানো হবে বলে সূত্রটি জানায়।
মুসার সম্পদের খোঁজে যেসব প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে সেগুলো হলো, বাংলাদেশ ব্যাংক, রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (এইচবিএফসি), জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তরর, পুঁজি বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি, বিমা নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), জীবন বিমা করপোরেশন, ডাক বিভাগ, রিহ্যাব, ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তর ও দক্ষিণ।

এ ছাড়া জমির হিসাব জানার জন্য ঢাকা জেলাসহ ৮ জেলা রেজিস্ট্রারের কাছেও চিঠি পাঠানো হয়। অন্য জেলাগুলো হলো, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, পাবনা ও চট্টগ্রাম।
দুদকের উপপরিচালক ও মুসার সম্পদ বিষয়ে অনুসন্ধান কর্মকর্তা মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী চিঠিগুলো পাঠান। মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে একটি দল অভিযোগটির অনুসন্ধান করছেন।
গত ৭ জুন দুদকে সম্পদ বিবরণী জমা দেন মুসা বিন শমসের। তাঁর জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী সুইস ব্যাংকে তাঁর ১২ বিলিয়ন ডলার জমা রয়েছে, যা বাংলাদেশি টাকায় ৯৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৭৮ টাকা হিসেবে)। সম্পদ বিবরণীতে তিনি জানিয়েছেন, সুইস ব্যাংকে তাঁর এ পরিমাণ অর্থ ‘ফ্রিজ’ অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়াও সুইস ব্যাংকের ভল্টে ৯০ মিলিয়ন ডলার দামের (বাংলাদেশি প্রায় সাত শ কোটি টাকা) অলংকার জমা রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। দেশে তাঁর সম্পদের মধ্যে গুলশান ও বনানীতে দুটো বাড়ি, সাভার ও গাজিপুরে ১২০০ বিঘা জমির কথাও বিবরণীতে তুলে ধরেছেন।
গত বছরের জুন মাসে বিজনেস এশিয়া নামের একটি সাময়িকীর ঈদ সংখ্যায় মুসাকে নিয়ে প্রকাশিত প্রচ্ছদ প্রতিবেদনের সূত্রে একই বছরের ৩ নভেম্বর কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে মুসার সম্পদ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। ওই সাময়িকীতে এই ব্যবসায়ীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তাঁর জীবনযাত্রা, আর্থিক সামর্থ্য ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ করা হয়। ১৮ ডিসেম্বর প্রায় ৪০ জন ব্যক্তিগত দেহরক্ষীর বহর নিয়ে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে হাজির হন তিনি।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সুইস ব্যাংকে জব্দকৃত তার অর্থ অবমুক্ত হলে এসব অর্থ পদ্মাসেতু নির্মাণসহ মানবকল্যাণে ব্যয় করবেন তিনি।
দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে মুসা দাবি করেন, বাংলাদেশ থেকে তাঁর কোনো অর্থই সুইস ব্যাংকে জমা হয়নি। ৪২ বছর বিদেশে বৈধভাবে ব্যবসার মাধ্যমেই তিনি ১২ বিলিয়ন ডলার উপার্জন করেছেন, যা সুইস ব্যাংকে তাঁর নিজস্ব অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, মিসর, সিরিয়া ও পাকিস্তানসহ অনেক দেশের সরকারি প্রতিরক্ষা ক্রয় সংক্রান্ত পাওনা পরিশোধের অর্থ ওই সব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে সুইস ব্যাংকে তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে।

Post A Comment: