১০ মহাগহ্বর খুঁড়েছিল শয়তান!
১০ মহাগহ্বর খুঁড়েছিল শয়তান!

দুনিয়ার বিভিন্ন কোণে এমন অনেক জিনিসই আছে যা আমরা কল্পনাই করতে পারি না।  প্রকৃতি এবং মানুষের সেই সব অনবদ্য সৃষ্টি যখন চোখের সামনে আসে, তখন বুঝতে পারা যায় আমাদের অস্তিত্ব কতটা তুচ্ছ! বিশ্বাস হচ্ছে না?  না হলে আরো খানিকটা সময় খরচ করে দেখুন, আশ্চর্য হবেন বললে কম বলা হবে।


ডিন'স ব্লু হোল: বাহামাস-এর লং আইল্যান্ডের ক্লেরেন্স টাউনের কাছেই রয়েছে এই ডিন'স ব্লু হোল।  ৬৫০ ফুট গভীর গর্তটি যেকোনো প্রফেশনাল ডিপ-সি ডাইভারের রাতের ঘুম কেড়ে নেবে! লোকগাথা অনুযায়ী, গর্তটি এক শয়তান খুঁড়েছিল এবং মানুষকে সেখানে টেনে নিয়ে গিয়ে ভেতরে ফেলে দিয়ে মেরে ফেলতো।

কেনেকট কপার মাইন: উটা’র সল্ট লেক সিটিতে অবস্থিত কেনেকট কপার মাইন।  একে বিংঘাম ক্যানয়ন মাইনও বলা হয়ে থাকে।  ১৯৬৬ সালে একে ন্যাশনাল হিস্টোরিক ল্যান্ডমার্কের স্বীকৃতি দেয়া হয়।  সল্ট লেক সিটির বাইরে ওকির পাহাড়ের অবস্থিত ২.৫ মাইল চাওড়া এই গর্ত।  এই মাইনটি বর্তমানে ইউনাইটেড কিংডমের রিও টিন্টো গ্রুপের অধীনে।

চান্দ বাওরি: ৮০০ খ্রিষ্টাব্দে তৈরি এই কুয়োটি অবস্থিত রাজস্থানের আবহানেরির হরশত মাতা মন্দিরের ঠিক বিপরীতে।  একশ’ ফুট গভীর কুয়োটি ভারতের গভীরতম এবং বৃহত্তম কুয়ো।  প্রায় সাড়ে তিন হাজারটি সরু খাড়াই সিঁড়ি আছে এবং এটি উচ্চতায় ১৩ তলার সমান।  আরো একটা কথা জানতে অবাক হবেন এখানের শ্যুটিং হয়েছে দ্য ফল এবং দ্য ডার্ক নাইট রাইজেজ ছবির।

কিম্বারলে মাইন: দক্ষিণ আফ্রিকার কিম্বারলে খনিতে একটা সময়ে ৬ হাজার পাউন্ডেরও বেশি হিরা ছিল।  একে 'বিগ হোল'-ও বলে।  হাতে খোঁড়া খনির মধ্যে এখনো পর্যন্ত এটিই হলো পৃথিবীর বৃহত্তম খনি।

ডোর টু হেল

তুর্কমেনিস্থানের দেরওয়েজে অবস্থিত বৃহত্‍‌ আকারের এ গহ্বরটির ভেতরে গত চল্লিশ বছর ধরে লাভা উদ‌গীরণ করছে।  একে তাই দরওয়াজা ক্রেটার বা ডোর টু হেল-ও বলে।  এটি ৬৯ মিটার চওড়া, ৩০ মিটার গভীর।  কানাডার ভূপর্যটক জর্জ কুরাউনিস প্রথম এই গহ্বরের কাছে যান।  তার উদ্দেশ্য ছিল এর আশপাশে কোনো প্রাণের স্পন্দন পাওয়া যায় কিনা তা দেখা।

দ্য কোলা সুপারডিপ বোরহোল: রাশিয়ার কোলা পেনিনসুলার পেকেংস্কি জেলায় অবস্থিত এই গহ্বরটি আসলে এক সায়েন্টিফিং ড্রিলিংয়ের জন্যে সৃষ্টি হয়েছে।  সোভিয়েত ইউনিয়নের করা এই ড্রিলিং এখন পৃথিবীর গভীরতম আর্টিফিশিয়াল পয়েন্ট।  এর গভীরতা শুনলে তাজ্জব বনে যাবেন।  তাও জেনে রাখুন... এর গভীরতা ৪০,২৩০ ফুট!

দ্য গ্রেট ব্লু হোল: বেলিজেতে অবস্থিত এই ব্লু হোলটি UNESCO-এর তরফে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের স্বীকৃতি পেয়েছে।  এখানে স্কুবা ডাইভিংও করা হয়।  এটি ১০০০ ফুট চওড়া এবং ৪০০ ফুট গভীর।

দ্য সমিল সিঙ্ক: উত্তর বাহামার আবাকো দ্বীপে।  এই গহ্বরেই পাওয়া গিয়েছিল আড়াই হাজার বছরের পুরনো এক বৃহত্‍‌ মাপের কচ্ছপের খোল।  গহ্বরটি ১৭ মিটার চওড়া এবং ৩৩.৫ মিটার গভীর।

ক্রেভেনো জেজেরো: ক্রোয়েশিয়ার ইমোত্‍‌স্কিতে অবস্থিত পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্‍‌ সিঙ্কহোল।  এর আশপাশের লালচে-ধূসর পাহাড়ের নামেই এর নামকরণ হয়েছে।

দ্য ডেভিল'স সিঙ্কহোল: টেক্সাসের এডওয়ার্ডস কাউন্টিতে অবস্থিত এই সিঙ্কহোলটি ৩৫০ ফুট গভীর। দেখলে গা শিউরে উঠবে যখন কয়েক লাখ বাদুর বাইরে থেকে এই গহ্বরের ভেতরে ঢোকে।

Post A Comment: