শান্তিতে ঘুমাতে চাইলে যেই কাজ করবেন প্রতিদিন
শান্তিতে ঘুমাতে চাইলে যেই কাজ করবেন প্রতিদিন

বর্তমানের ব্যস্ততা ও চাপের জীবনে ঠিকমতো বিশ্রাম নেবারও সুযোগ নেই, ভালো করে ঘুমানো তো দূরের কথা! কিন্তু সুস্থ থাকতে হলে যেমন সুষম খাবার গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি, তেমনি সঠিক পরিমাণে ভালো ঘুমও খুবই দরকার। অনেকেই আছেন যারা রাতে ঠিকমতো ঘুমুতে পারেন না বলে তাদের পুরোটা দিন খারাপ যায়, কোনো কাজই ঠিকমতো করতে পারেন না। জেনে নিন কিছু কৌশল যা আপনাকে শিশুর মতো নিশ্চিন্তে এবং শান্তিতে ঘুমাতে সাহায্য করবে।


১. প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান। তারমানে এই নয় যে প্রতিদিন একই সময়ে বিছানায় যেতে হবে। তবে এটা খেয়াল রাখুন যেন সঠিক সময়ে ঘুমিয়ে পড়তে পারেন। ঘুমের সময় নির্দিষ্ট থাকলে তা ভালো ঘুম হতে সহায়তা করে।

২. রাতের খাবার গ্রহণের করার পর পরই ঘুমাতে যাবেন না। খাবার গ্রহণ এবং ঘুমের মধ্যে অন্তত দু ঘণ্টার ব্যবধান রাখুন। কারণ ঘুমানোর পর আমাদের শারীরিক প্রক্রিয়াগুলোর গতি ধীর হয়ে যায়। খাবার গ্রহণের পর পরই ঘুমিয়ে গেলে তা হজমে ব্যাঘাত ঘটায় এবং শরীরে অস্বস্তি বোধ হয়। এতে ভালো ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।

৩. প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন। প্রথম দিকে ঘড়িতে অ্যালার্ম দিয়ে রাখতে পারেন, তবে মোবাইলে অ্যালার্ম দেবেন না। ধীরে ধীরে অ্যালার্ম ছাড়াই ঘুম থেকে ওঠা অভ্যাস হয়ে যাবে। কারণ যদি ঘুম ঠিকমতো হয়, তাহলে অ্যালার্মেরও প্রয়োজন হবে না।

৪. প্রতিদিন কিছু না কিছু কায়িক পরিশ্রম করুন। ব্যায়াম সন্ধ্যার দিকে করুন। এটি আপনাকে শান্তিতে আরাম করে ঘুমাতে সাহায্য করবে।

৫. ঘুমাতে যাবার সময় বই বা পত্রিকা সাথে নিয়ে বিছানায় যাবেন না। বই পড়লে ঘুম আসলেও ঘুমাতে ইচ্ছে করে না। বই পড়া শেষ করে তবেই বিছানায় যান।

৬. ঘুমানোর সময় ঘর অন্ধকার করে নিন। গাঢ় অন্ধকারে মস্তিষ্ক দ্রুত প্রশান্তি লাভ করে। ড্রিম লাইটের আলোও আপনার আরামের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই শান্তিতে ঘুমাতে চাইলে অবশ্যই অন্ধকার ঘরে ঘুমান।

৭. ঘুমানোর জায়গা নিঃশব্দ রাখুন। আমরা ঘুমিয়ে গেলেও আমাদের মস্তিষ্ক জেগে থাকে। ছোটখাট শব্দেও সে বিচলিত হয়ে উঠতে পারে এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তাই শব্দহীন পরিবেশে ঘুমাতে যান। এমনকি আশেপাশে ফোনও রাখবেন না। কারণ রিংটোন যতই কমানো থাকুক না কেন, তা রাতে অনেক জোরে শোনা যায় এবং ঘুম ভেঙে যায়।

৮. বিছানায় যতটা সম্ভব জিনিসপত্র কম রাখুন। বালিশ ছাড়া বিছানায় আর কোনো কিছুই নিয়ে ঘুমাতে যাবেন না। যদি চাদর, কাঁথা বা কম্বলের প্রয়োজন না থাকে তাহলে বিছানায় এসব রাখবেন না। কারণ এসবও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। ঘুমন্ত অবস্থায় এসব শরীরে লাগলে অস্বস্তিতে ঘুম ভেঙে যেতে পারে।

৯. ঘুমানোর আগে চা, কফি বা ধূমপান কিছুই করবেন না। কারণ কফির ক্যাফেইন ঘুমে বাধা প্রদান করে। চা মস্তিষ্কে উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়। একই কথা ধূমপানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

Post A Comment: