বেতন ঠিকমতো না পেয়ে এর আগে বারবার খবর হয়েছেন। নাটকীয় সব ঘটনার পর এখন অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করছেন বাফুফের সঙ্গে। কেমন চলছে সবকিছু? এসব প্রশ্নে বেশ ধীরস্থির লোডভিক ডি ক্রুইফ। কাল সন্ধ্যায় আফগানিস্তান ম্যাচের প্রস্তুতি শেষে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে কথা বললেন প্রাসঙ্গিক অনেক বিষয়ে

 বাংলাদেশে প্রথম এসেছেন প্রায় আড়াই বছর আগে। কেমন কাটছে এ দেশে?
লোডভিক ডি ক্রুইফ: সহজ বলব না। বেশির ভাগ সময় হোটেলেই থাকি। রাস্তায় বেরোনোর কথা যদি বলেন, আপনি-আমি সবারই একই অবস্থা। ট্রাফিক খুব বেশি, গরম। তবে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি।
. কাজের বাইরে সময়টা কী করেন?
ডি ক্রুইফ: সত্যি বলতে আড়াই বছরে ঢাকা আর সিলেট ছাড়া অন্য কোথাও যাইনি। যতক্ষণ এখানে থাকি, কাজের মধ্যেই কেটে যায়। তবে বাংলাদেশের অনেক কিছুই দেখতে চাই, কিন্তু বাস্তবতা হলো, সময় নেই।
. বাফুফের সঙ্গে অস্থায়ী চুক্তিতেই কাজ চালিয়ে যাবেন?
ডি ক্রুইফ: আমার কাজটা আসলে এখন ‘দৈনিক চাকরি’ বলতে পারেন। খেলা থাকলে আসি, নইলে হল্যান্ডেই থাকি। এতে কোনো সমস্যা দেখছি না। বরং বলব, যেভাবে আছি, ভালোই আছি। আমাদের মধ্যে একটা সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তবে নিশ্চয়ই চাইব, ফুটবল ফেডারেশনের একটা ভালো পরিকল্পনা থাকুক। তাদের আর্থিক সমস্যা আছে জানি। সরকারের সহায়তা চেয়েছে। ফান্ড পেলে নিশ্চয়ই আরও ভালো কিছু হবে। আমরা একসঙ্গে কাজ করব।
. তার মানে আপনি দীর্ঘ সময় নিয়ে থাকছেন বলতে পারি আমরা?
ডি ক্রুইফ: এ মুহূর্তের নেতিবাচক কিছু দেখছি না। সবকিছু সুন্দরভাবে না চললেই তো সমস্যা হয়। কাঙ্ক্ষিত চাওয়াগুলো পূরণ হচ্ছে, সত্যি বলতে এখন কোনো সমস্যা নেই। ফেডারেশনের একটা ভিশন আছে। বাংলাদেশের ফুটবলকে আমরা একটা জায়গায় নিয়ে যেতে পারব আশা করি।
. এই একটা জায়গায় নিয়ে যাওয়া মিশনটা আড়াই বছর আগে শুরু করেছেন আপনি। কোনো পরিবর্তন দেখছেন?
ডি ক্রুইফ: পরিবর্তন অবশ্যই আছে। বঙ্গবন্ধু কাপের সময় এ দেশে ফুটবল উন্মাদনা ফিরে এসেছে। স্টেডিয়ামভরা দর্শক, খেলোয়াড়েরা ভালো পারফর্ম করেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা ফাইনালে হেরে যাই। ঢাকায় প্রথম এসে লক্ষ্য ছিল মাঠে দর্শক ফেরানো। আমার মনে হয় দর্শক ফিরেছে। এখন পরবর্তী ধাপে যেতে হবে।
. সেই ধাপটা আপনি ঠিক করেছেন বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে গ্রুপে তৃতীয় হওয়া। সত্যিই এটা সম্ভব মনে করেন?
ডি ক্রুইফ: সম্ভব কি না আরও পরে বলতে পারব। গ্রুপে অস্ট্রেলিয়া, জর্ডান, তাজিকিস্তান ও কিরগিজস্তানের পরেই বাংলাদেশকে রাখতে চাইবেন প্রায় সবাই। কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তান আমাদের সীমানার মধ্যেই আছে। এই দুই দলের সঙ্গে সামনের দুটি হোম ম্যাচে আমাদের প্রথম কাজই হবে কিছু পয়েন্ট পাওয়া। তারপর তৃতীয় হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলাটা হবে বাস্তবসম্মত।
. অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের সঙ্গে খেলবে বাংলাদেশ। একজন ডাচ কোচ হিসেবে আপনি নিজে কতটা রোমাঞ্চিত?
ডি ক্রুইফ: অনেক অনেক...। আমাদের জন্য এটি হবে বড় এক অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া গিয়ে খেলবে, দারুণ ব্যাপার। তবে অস্ট্রেলিয়া, জর্ডানের কথা ভুলে যান। ওরা অনেক শক্তিশালী। ওই ম্যাচগুলো নিয়ে আমাদের ভাবনা কী হওয়া উচিত তা সবাই বোঝেন। তারপরও আমি বেশ উজ্জীবিত বোধ করছি।
. এই মিশনে খেলোয়াড়দের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। খেলোয়াড়দের সামর্থ্য কী বেড়েছে মনে করেন?
ডি ক্রুইফ: অবশ্যই বেড়েছে। সিঙ্গাপুর ম্যাচে সত্যিকারের ফুটবল খেলার চেষ্টা, ম্যাচটা নিয়ন্ত্রণ করা, এগুলো দ্বিতীয়ার্ধে দেখেছি আমরা। তবে উন্নতির জায়গা অনেক। যেমন ধরুন, সেট পিসে এখনো আমরা ধুঁকছি। ওই ম্যাচে দেখে থাকবেন, রক্ষণ, গোলকিপিংয়ে ত্রুটি ছিল। গোলকিপার যখন সমস্যায় থাকে, তাঁকে সহায়তা করা উচিত অন্যদের। কিন্তু সিঙ্গাপুর ম্যাচে ওই প্রতিক্রিয়াটা দেখাতে পারেনি খেলোয়াড়েরা। অন্য অনেক কিছুর সঙ্গে এসব নিয়েও কাজ করা দরকার।
. কিন্তু ঘরের মাঠেও দেখা যাচ্ছে গরমে কাহিল খেলোয়াড়েরা। কিছু খেলোয়াড় পঞ্চাশ ভাগও দিতে পারেননি সিঙ্গাপুর ম্যাচে, ফিটনেসের অভাব...এসব কেন?
ডি ক্রুইফ: এগুলো আমারও প্রশ্ন। দেখুন, আমি এক দিন দেখাতে পারব, দুই দিন দেখাব, এক সপ্তাহ দেখাব। তবু ওরা ভুল করলে সবাই বলবেন ধেৎ, এঁদের দিয়ে কিছুই হবে না। তাই খেলোয়াড়দের আরও সচেতন হতে হবে। সাফল্যের চাবিকাঠি ওদের হাতেই।
. শেষ প্রশ্ন। আফগানিস্তানকে ঘরের মাঠে হারাতে পারবেন?
ডি ক্রুইফ: এশিয়াডে ওদের অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে হারিয়েছি। রক্ষণাত্মক কৌশলে ট্যাকটিক্যালি জিতি আমরা। বল পজেশন ওদের পক্ষে ছিল ৭০-৩০। সেই দলের মাত্র দু-তিনজন এসেছে জাতীয় দলের সঙ্গে, বাকিরা সবাই ইউরোপভিত্তিক। হল্যান্ড থেকে আসা চারজনকে তো আমি নিজে ট্রেনিং করিয়েছি। শক্তিশালী প্রতিপক্ষ, তবু অবশ্যই জিততে চাইব।

Post A Comment: