একটা দীর্ঘ সময় অনেকের মতে বিশ্বের ত্রাস ছিল ওসামা বিন লাদেন।। ২০১১ সালে মার্কিন হানায় ওসামা-ভীতির ইতি ঘটেছে। ঠিক পরের বছর, অর্থাত্‍ ২০১২ সাল থেকেই নয়া ত্রাসের নাম হয়ে উঠল ইরাক ও সিরিয়ায় সক্রিয় কট্টরপন্থী সংগঠন আইএসআইএস। পুরো নাম, ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্ত। কিন্তু হঠাৎ করে আইএসআইএস নামক জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থান কেন হলো? ২০১২-র আগে এই জঙ্গি গোষ্ঠী কোথায় ছিল? আসলে গোটা ছকের পিছনেই রয়েছে ভাঙাগড়ার খেলা। যে খেলাটি খুব সুচারুভাবে শুরু করেছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ। হ্যাঁ, আইএসআইএস তৈরিতে অবদান ছিল বুশের। এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে মার্কিন নিউজ ওয়েবসাইট www.vox.com। তারা অতীতের এমন কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরেছে, যা প্রমাণ করে, মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তি বজায় রাখাই উদ্দেশ্য ছিল বুশের।

ফিরে যাওয়া যাক ২০০৩-এ। ইরাকের শাসক সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশ বলেছিলেন, 'ইরাকে দীর্ঘ দিনের সেনা অভিযানের শেষ হলো। ইরাকের মানুষের উৎসবে দেখা যাচ্ছে, মানবিক স্বাধীনতা চায় সবাই। ইরাকের এই স্বাধীনতা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।'
আপাত নিরীহ এই ঘোষণাটির মধ্যেই লুকিয়ে ছিল আজকের আইএসআইএস-এর বীজ। বুশের বক্তব্যে মানবিক স্বাধীনতার কথাটি বেশ তাত্‍পর্যপূর্ণ। ইরাক-সহ মধ্যপ্রাচ্যের যুব সম্প্রদায়কে প্রচ্ছন্ন উস্কানি দেয়াই ছিল বুশের ঘোষণার নির্যাস। www.vox.com-এর দাবি সাদ্দামের গ্রেপ্তারের পর ইরাকে জনযুদ্ধ শেষ হয় ঠিকই, কিন্তু বুশের মানবিক স্বাধীনতায় উস্কে শুরু হয় আইএসআইএস-এর উত্থান।

সাদ্দামের মৃত্যুর পর সাময়িক শান্ত ইরাক আবার অশান্ত হতে শুরু করল। মার্কিন উস্কানিতে মধ্যপ্রাচ্যে ফের হিংসা। বুশ চেয়েছিলেন, মার্কিন নিয়ন্ত্রণেই মধ্যপ্রাচ্যের পুনর্গঠন। নয়া প্রজন্মের হাতে থাকবে শাসনের দায়িত্ব। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাস থামার বিষয়টিও সুনিশ্চিত হবে।

কিন্তু বুশের যাবতীয় পরিকল্পনায় পানি পড়ে যায় বছর ঘুরতেই। ইরাকে ফের শুরু হয় গণ-যুদ্ধ। ইরানের শক্তিও বাড়তে থাকে। আরব বসন্তে ফের নেমে আসে অশান্তির ছায়া। মূলত ইরাকের সেই জনযুদ্ধ থেকেই আইএসআইএস-এর উত্থান। আর সেই উত্থানের পিছনে অনেকটাই দায়ী বুশের মানবিক স্বাধীনতা তত্ত্ব।

Post A Comment: