মাশরাফি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। সবার মাথায় হাত। মাশরাফির বাসা থেকে লোকজন ছুটে এসেছেন, মাশরাফির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা চলছে। পাওয়া গেল মাশরাফিকে। তার কী অবস্থা, এটা জানাই উদ্দেশ।


উল্টো মাশরাফি জিজ্ঞেস করলেন, ‘রিয়াদের কী অবস্থা? ছেলেটার জন্য খুব খারাপ লাগছে।’   হ্যাঁ, দিনশেষে মাশরাফির চেয়ে বড় খবর হয়ে গেলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মাঠে ও মাঠের বাইরে দুর্ঘটনার এই দিনে অনুশীলনে আঙুলে চোট পেয়ে তিন থেকে চার সপ্তাহের জন্য খেলা থেকে ছিটকে গেছেন সদ্যই বিশ্বকাপ কাঁপিয়ে আসা এই ব্যাটসম্যান।   গতকাল বিকেলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হলো, ভারতের বিপক্ষে সিরিজে থাকতে পারছেন না এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান ও অফস্পিনার। বিসিবির চিকিত্সক দেবাশীষ চৌধুরীকে উদ্ধৃত করে এই তথ্য জানানোর পাশাপাশি জানানো হয়েছে যে, রিয়াদের বদলে টেস্ট দলে যোগ দিচ্ছেন অলরাউন্ডার নাসির হোসেন। প্রায় নয় মাস পর আবার টেস্ট দলে ফিরলেন নাসির। রিয়াদের ইনজুরিটা ছিলো ফিল্ডিং অনুশীলনের সময়ে। স্লিপের নিয়মিত এই ফিল্ডার বিশেষায়িত অনুশীলনই করছিলেন। সে সময়ই একটা বল হাতে নিতে গিয়ে বাম হাতের তর্জনীতে লাগে। তাত্ক্ষণিক ইনজুরির ভয়াবহতা বোঝা না গেলেও এক্সরে করার পর বোঝা গেলে আঙুলে আসলে বেশ ভালো চিড় ধরেছে তার।   বিশ্বকাপে টানা দুই সেঞ্চুরি করে রীতিমতো বিজ্ঞাপনের চরিত্র হয়ে যাওয়া রিয়াদের ইনজুরি সম্পর্কে এক্সরে হাতে পাওয়ার পর জাতীয় দলের ফিজিও আহমেদ বায়োজিদ বলছিলেন, ‘আজ (গতকাল) সকালে স্লিপ ফিল্ডিং অনুশীলনের সময় বাম হাতের তর্জনীতে আঘাত পেয়েছেন রিয়াদ। এক্সরে করানো হয়েছে, তাতে একটু চিড় দেখা গেছে। তারপর আর অনুশীলন করেনি সে। তার আঙুল আপাতত ক্লিপ দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। আঙুলে যেহেতু ফাটল দেখা গেছে, তার সুস্থ হতে তিন থেকে চার সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। হাসপাতালে নিয়ে আরো পরীক্ষা করা হবে।’   সেসব পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে একই ধরনের কথা বলেছেন চিকিত্সক দেবাশীষ চৌধুরীও। তিনিও বলেছেন, ‘সকালের অনুশীলনে চোট পেয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। রিপোর্টে দেখা গেছে তর্জনীতে চিড় ধরেছে। এ ধরনের ইনজুরি থেকে সেরে উঠতে ৩-৪ সপ্তাহ সময় লাগে। রিয়াদ দু’-একদিনের মধ্যে মেডিকেল টিমের অধীনে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করবেন।’   তিন থেকে চার সপ্তাহের এই প্রক্রিয়াকে তিন সপ্তাহে নামিয়ে ভাবলেও রিয়াদের পক্ষে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট বা ওয়ানডে কোনোটাই খেলা সম্ভব হচ্ছে না। ১০ জুন ফতুল্লায় শুরু হতে যাওয়া ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে নিশ্চিতভাবেই খেলা হবে না মাহমুদুল্লাহর। কারণ সেদিন এক সপ্তাহও পূর্ণ হবে না। এরপর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি শুরু হবে ১৮ জুন। বাকি দুটি ওয়ানডে হবে ২১ ও ২৪ জুন। দিবা-রাত্রির তিনটি ওয়ানডেই হবে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। এ সময়ও রিয়াদের থাকতে হবে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায়।   ফলে ইনফর্ম এই তারকাকে বেশ ভালোমতোই মিস করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। সেটাই বলছিলেন মাশরাফি, ‘রিয়াদকে তো সবসময়ই খুব দরকার হয়। ওকে পুরো দল খুব মিস করবে। আশা করছি, দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।’   এখন সেই আশার বিকল্প নেই। অন্তত ভারত সিরিজ শেষের এক সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হতে যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে রিয়াদ ফিরে আসবেন, এটা আশা করাই এখন কাজ।
ফেসবুকে আমি

Post A Comment: