এক পায়ের ট্রাউজার হাঁটু পর্যন্ত গুটিয়ে হাঁটছেন, এই দৃশ্য নতুন কিছু নয় মাশরাফি বিন মুর্তজার জন্য। সেটা ব্লুমফন্টেইনের সাউদার্ন সান হোটেলের লবিতেই হোক, কিংবা বিসিবির বারান্দা বা মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে। কখনো হাঁটুতে নি ক্যাপ বাঁধা থাকায়, কখনো বা অভ্যাসের বসেই। কিন্তু কালকের কারণটা ছিল ভিন্ন।
বাসের ধাক্কায় রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে চোট পাওয়া মাশরাফি জিম শুরু করবেন আজ থেকে। তবু কাল সকালের দিকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এসেছিলেন চিকিৎসকদের চোটাক্রান্ত হাত-পা দেখাতে। ডান পায়ের ট্রাউজার গুটিয়ে রাখা মাশরাফিকে পাওয়া গেল বিসিবির মেডিকেল রুমের সামনে। কারণটা বলতে হলো না। হাঁটুতে লালচে ক্ষত, ট্রাউজার পরা থাকলে কাপড়ের ঘষায় জায়গাটা সহজে শুকাবে না। মাশরাফি অবশ্য হাঁটুর আঘাত নিয়ে তেমন চিন্তিত নন, ‘এটা সমস্যা নয়...শুকিয়ে যাবে। তা ছাড়া নি ক্যাপে মুড়ে ফেললে আর কোনো অসুবিধাই হবে না।’
তাঁর মূল সমস্যা ডান হাতে; যে হাত দিয়ে বল করবেন, যে হাত সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হবে ব্যাটিং-ফিল্ডিংয়েও। দুর্ঘটনার পর দুই হাতেই টেপ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেটা খুলে ফেলায় কাল বোঝা যাচ্ছিল হাতের আসল অবস্থা। ডান হাতের কবজি থেকে তালুর দিকে যেতেই গোল একটা ক্ষত। মাশরাফি ওটা দেখিয়ে বলছিলেন, ‘এটা না শুকালে বল করতে সমস্যা হবে। বল ধরা বা কবজি করা যাবে না। এই চোটটা নিয়েই বেশি চিন্তা।’
১৮ জুন ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে। মাশরাফির খুব ইচ্ছা, তার আগে হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের প্রস্তুতি ম্যাচগুলোর অন্তত একটাতে খেলবেন, ‘গত এক মাস কোনো ম্যাচ খেলিনি। নিজের জন্যই কিছু ম্যাচ খেলা দরকার। বগুড়ায় এইচপির ম্যাচে খেলতে পারলে খুব ভালো হয়।’
এইচপির ২২ ক্রিকেটার আর টেস্ট দলের বাইরে থাকা জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা দুই ভাগে ভাগ হয়ে আজ ও আগামীকাল দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবেন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। এরপর হবে দুটি ৫০ ওভারের ও দুটি ৯০ ওভারের ম্যাচ। ১০ ও ১২ জুন বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে হবে ৫০ ওভারের ম্যাচ দুটি। ফতুল্লায় ৯০ ওভারের ম্যাচ দুটি হবে ১৭-১৮ এবং ২০-২১ তারিখে। মূলত এইচপি ও জাতীয় দলের আশপাশে থাকা ক্রিকেটারদের সম্পর্কে ধারণা পেতেই ম্যাচগুলো খেলাচ্ছেন এইচপির প্রধান কোচ ম্যাল লয়।
বগুড়ায় ৫০ ওভারের ম্যাচ দুটিতে খেলতে চাচ্ছেন মাশরাফি। তবে বিসিবির চিকিৎসক দেবাশিস চৌধুরী জানালেন, এ মুহূর্তে হাতের যে অবস্থা, তাতে ১০ তারিখের ম্যাচে তাঁর খেলতে পারার সম্ভাবনা কম। তবে ১২ জুনের ম্যাচটি মাশরাফি খেলতে পারবেন বলে আশাবাদী তিনি, ‘ব্যথা থাকলে ডান হাতের একটা এক্স-রে করানোর পরিকল্পনা ছিল আমাদের। সেটার আর প্রয়োজন মনে হচ্ছে না। হাতে ইনফেকশন হয়ে না গেলে মাশরাফি বগুড়ায় ১২ তারিখের ম্যাচটা খেলতে পারবে।’

Post A Comment: