সৃষ্টির প্রথম মানুষ থেকে আজ পর্যন্ত যত মানুষ পৃথিবীর বুকে এসেছে প্রত্যেকের একটি আকাঙ্ক্ষা ছিল । আর তা হল, সে কিভাবে শান্তি-সুখ-সফলতা পেতে পারে? এজন্য আমাদের প্রত্যেকের জরুরি ভিত্তিতে জানা প্রয়োযন আসলে শান্তি-সুখ-সফলতা বলতে কি বোঝায় ? কোথায় পাওয়া যাবে আর এটা অর্জনের জন্য সময়ই বা কতটুকু ! এ ভুবনের প্রত্যেক নর নারি-ই পেতে চায় শান্তি-সুখ-সফলতা । আর সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ্‌ তাআলাও মানুষকে শান্তি-সুখ-সফলতা দিতে চান । আল্লাহ্‌ সুবহানাতাআলা মানুষের ক্ষণস্থায়ী দুনিয়া আর চিরস্থায়ী আখেরাতের জিন্দেগীর শান্তি-সুখ-সফলতা একমাত্র তার দ্বীনের মধ্যে রেখেছেন । ছোট্ট ছোট্ট শান্তির দ্বারা সুখ আসে, আর অল্প অল্প সুখের সমষ্টির মাধমে সফলতার শুরু হয় । আল্লাহ্‌ সুবহানাতাআলা এই সফলতা অর্জনের জন্যই আমাদেরকে সংক্ষিপ্ত এক জীবন দিয়ে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন । যে জীবনের সমাপ্তি ঘটবে আমাদের মউতের দ্বারা । এই জীবন-মৃত্যু বা হায়াত-মউতের সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ্‌ তাআলা । আল্লাহ্‌ তাআলা পবিত্র কুরাআনের ২৯ নং পারার সূরা মূলকের দ্বিতীয় আয়াতে এরশাদ করেন “জিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন, তোমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য যে, কে তমাদের মধ্যে করমে উত্তম ? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল” । সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ্‌ তাআলা দুনিয়াকে বানিয়েছেন পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে আর সময় দিয়েছেন মৃত্যু পর্যন্ত যাতে করে আমারা ইমানের সাথে উত্তম আমাল করে পরীক্ষাতে উত্তীর্ণ হয়ে শান্তি-সুখ-সফলতা অর্জন করতে পারি । আসলে একজন মানুষ তখনই শান্তি-সুখ-সফলতা অর্জনে সক্ষম হল যখন তার সমস্ত চাহিদা পূর্ণ হয়ে যায় । কোন আকাঙ্ক্ষা আর বাকি থাকে না । আর এটা সম্ভব একমাত্র তখন, যখন একজন মানুষ মৃত্যুর পরবর্তী জীবনে জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে জান্নাতের বাগানে প্রবেশ করবে । যেখানে সে কখনো বুড়ো হবে না, চির যুবক থাকবে । কোন অসুস্থতা তাকে স্পর্শ করবে না । মন যা চাইবে তাই সে পাবে । কোন অশান্তি দুঃখ গ্লানি তাকে গ্রাস করতে পারবে না। তাকে ঘিরে রাখবে শুধুমাত্র শান্তি-সুখ-সফলতা আর এই শান্তি-সুখ-সফলতা পেতে হলে আমাদের এই ক্ষণস্থায়ী জীবন ক আল্লাহ্‌র দেওয়া বিধান আর প্রিয় নবি মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহিসসালামের সুন্নাত তরিকা অনুযায়ী চালাতে হবে । আমাদের এই জীবনটা বরফের মত । বরফ যেভাবে গলতে থাকে ঠিক সেভাবে আমাদের জীবন ও শেষ হতে থাকে । বুদ্ধিমান তো সেই ব্যাক্তি যে তার মৃত্যুর আসার আগে মৃত্যুর প্রস্তুতি গ্রহন করে । আর এ হল ইমান ও আমালের পরিপূর্ণতার পাস্তুতি । শান্তি-সুখ-সফলতার পাস্তুতি । তাই আসুন আমরা সবাই একটু নিরবে বসে চিন্তা করি আমাদের এই ছোট্ট জীবনটাকে নিয়ে । জীবনটা খুবই সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত দামী মৃত্যু পরবর্তী জীবনের চিরস্থায়ী শান্তি-সুখ-সফলতা অর্জনের জন্য। আল্লাহ্‌ সুবহানাতাআলা আমাদেরকে চিরস্থায়ী শান্তি-সুখ-সফলতা পাওয়ার তাওফিক দান করেন । আমিন ।

Post A Comment: