হিংসা ও আতঙ্কের আবহের বাইরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি না হলে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গত রোববার তিনি এ কথা বলেন। এই সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নরেন্দ্র মোদি প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন যাবেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এক বছরের শাসনে প্রতিবেশী দেশগুলো গুরুত্ব পেলেও পাকিস্তান কেন এখনো ব্রাত্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান নিয়ে ভারতের নীতি সব সময়ই স্বচ্ছ এবং ধারাবাহিক। এ সরকার প্রথম দিনেই তিনটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে। শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সব সমস্যার সমাধান করতে হবে, সেই আলোচনায় তৃতীয় কোনো দেশের উপস্থিতি গ্রাহ্য হবে না এবং আতঙ্ক ও হিংসার আবহের বাইরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদির ইসরায়েল সফর প্রায় পাকাই বলে জানান সুষমা স্বরাজ। তবে কবে তিনি যাবেন, তা ঠিক হয়নি। সুষমা বলেন, এ সরকার ইসরায়েলের দিকে ঝুঁকে রয়েছে বলাটা ভুল হবে। সরকারের ফিলিস্তিন নীতি প্রথম দিন থেকেই ধারাবাহিক। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু প্রথম কমিউনিস্ট নেতা হিসেবে ইসরায়েল গিয়েছিলেন। অটল বিহারি বাজপেয়ির আমলে লালকৃষ্ণ আদভানি ও যশোবন্ত সিং ইসরায়েল গেলেও বাজপেয়ি যেতে পারেননি। ২০০৩ সালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যারিয়েল শ্যারন প্রথম ভারত সফরে এসেছিলেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট শিমন পেরেজও ভারত সফর করে গেছেন। কিন্তু কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী এখনো ইসরায়েল যাননি।
সুষমা বলেন, চীন-ভারত সম্পর্কে বেশ কিছু কাঁটা আছে। সীমান্ত সমস্যা রয়েছে, ভিসা সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যার সুরাহা এখনো হয়নি। তবে এই প্রথম চীনের সঙ্গে ভারতের আলোচনা অনেক বাস্তবমুখী হয়েছে। এই প্রথম ভারতের প্রধানমন্ত্রী চীনা নেতৃত্বকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, একুশ শতক এশিয়ার হতে হলে সীমান্ত সমস্যা, ভিসা সমস্যাসহ বকেয়া সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে।
মোদি সরকারের প্রথম বছরে ১০১টি দেশের সঙ্গে মোট ১৬২ বার নানা পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে বলে সুষমা জানান। তিনি বলেন, এই ধারাবাহিক আলাপ-আলোচনার সুফলও পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ এই এক বছরে আগের বছরের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। বিদেশি বিনিয়োগের মোট পরিমাণ ২৮ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলার।
এই এক বছর তিনি কেন চুপচাপ ও গুটিয়ে আছেন, জানতে চাওয়া হলে সুষমা স্বরাজ বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের চুপচাপই কাজ করতে হয়। দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তাঁদের অভিমত দেওয়া উচিত নয়।

Post A Comment: