বড় মেয়ের স্কুলজীবনের প্রথম পরীক্ষা। আবদার করেছে, বাবার হাত ধরে প্রথম পরীক্ষা দিতে যাবে। সেই আবদার রাখতে রাঙামাটি যাচ্ছিলেন অঞ্জন কুমার দে (৪৭)। কিন্তু রাঙামাটি পৌঁছা হয়নি তাঁর। কুমিল্লার চান্দিনায় পেট্রলবোমার আগুনে পুড়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন তিনি।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের উপদেষ্টা অঞ্জন কুমার রাঙামাটির সাহিত্য, সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ সব মহলে সজ্জন হিসেবে পরিচিত। যে কেউ তাঁর দগ্ধ হওয়ার খবর শুনে অনেকটা স্তব্ধ হয়ে যান। খবর পেয়ে অঞ্জন কুমারের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও দুই ভাই গতকাল ঢাকায় গেছেন।

অঞ্জন কুমারের ছোট বোন বন্দনা দে জানান, দুই মেয়ের বাবা অঞ্জনের বড় মেয়ে উৎপলা কৌশিকি দে (৬) রাঙামাটি সেন্ট ট্রিজার্স স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। ছোট মেয়ের নাম অর্চি উৎপলা দে (৪)। রাঙামাটিতে অসুস্থ মাকে দেখে গত শনিবার ঢাকায় ফিরে যান অঞ্জন। কিন্তু মঙ্গলবার তাঁর বড় মেয়ে মুঠোফোনে আবদার করে বলে, ‘বাবা, বৃহস্পতিবার আমার পরীক্ষা। তোমাকে সেদিন আমাকে স্কুলে নিয়ে যেতে হবে।’ সেই আবদার মেটাতে রাঙামাটি আসছিলেন তিনি।
অঞ্জন কুমারের অন্যান্য স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্র অবস্থায় রাঙামাটির সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পরিচিত হয়ে ওঠেন। ছাত্রজীবনে কয়েকজন সাহিত্যানুরাগীর সঙ্গে সাহিত্য সংগঠন ‘সপ্তর্ষি’ প্রতিষ্ঠা করে লেখালিখি শুরু করেন। পেশাগত জীবন শুরু করেন তৎকালীন দৈনিক জনতার রাঙামাটি প্রতিনিধি ও স্থানীয় সাপ্তাহিক বনভূমির প্রতিবেদক হিসেবে। পরে রাঙামাটিতে প্রথম কম্পিউটার মুদ্রণ ব্যবসা শুরু করেন এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত হন।

Post A Comment: