বিশ্বকাপ তো আছেই, আছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিও। আগামী বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিও সেখানেই। ফলে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলাটা হবে বিশ্বকাপের জন্য অভিজ্ঞতা পুঁজি করার সুযোগ। আর সেই সুযোগ ​পাওয়ার শর্ত একটাই র‍্যাঙ্কিংয়ের আটের মধ্যে থাকতে হবে। র‍্যাঙ্কিংয়ে সেরা আটটি দল খেলবে ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। সেরা আট দল সুযোগ পাবে ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগও।


ফলে এই আট নম্বর জায়গাটি বাংলাদেশের জন্য হয়ে উঠেছে দারুণ গুরুত্বপূর্ণ। যে জায়গাটি নিয়ে লড়াই হচ্ছে পাকিস্তানের সঙ্গে। পাকিস্তান যে নয়ে। বাংলাদেশের কাছে ধবল ধোলাই হয়েই নয়ে নেমে যায় পাকিস্তান। আটে উঠে আসে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জিতেও তাদের রেটিং পয়েন্টে কোনো হেরফের হয়নি। ফলে নয়েই আটকে আছে তারা।
সামনে পাকিস্তানের খেলা শ্রীলঙ্কার সঙ্গে। বাংলাদেশের ওয়ানডে সিরিজ আছে ভারতের বিপক্ষে। এই দুটো সিরিজ র‍্যাঙ্কিংয়ে এনে দিতে পারে ওলটপালট। পাকিস্তান কোচ ওয়াকার ইউনিস সরাসরি বাংলাদেশের নাম না বললেও এটা বলেছেন, তিনি আশাবাদী, তাঁর দল চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতে সুযোগ পাবে। আপাতত র‍্যাঙ্কিংয়ের জায়গা নিয়ে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিপক্ষ যেমন পাকিস্তান, পাকিস্তানেরও প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ।
তবে এমনও হতে পারে, বাংলাদেশ-পাকিস্তান দুই দলই চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলল। সেই সম্ভাবনাও আছে। তখন বাদ পড়বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুদলেরই রেটিং পয়েন্ট সমান—৮৮। পাকিস্তানের ৮৭। আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোনো ওয়ানডে সিরিজ নেই। আর সেপ্টেম্বর ৩০-এর মধ্যে র‍্যাঙ্কিংয়ের আটে থাকা দলগুলোই খেলবে ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি।
আপাতত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ ছয়টি ওয়ানডে খেলবে, পাকিস্তান পাঁচটি। জুন-জুলাইয়ের এই সময়টায় বৃষ্টির প্রকোপ থাকতে পারে। ভেসে যেতে পারে ম্যাচ। এতে বাংলাদেশ রেটিং পয়েন্ট বাড়ানোর সুযোগ হারাবে। পাকিস্তানের পাঁচটি ওয়ানডে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। দ্বীপ দেশটি বৃষ্টির কথা মাথায় রেখেই পাঁচটি ওয়ানডের জন্যই রেখেছে রিজার্ভ ডে, এই সুযোগটা বাংলাদেশের নেই।
র‍্যাঙ্কিংয়ের হিসাব হচ্ছে, এগিয়ে থাকা দলের সঙ্গে খেলে জিতলে সেই দলের রেটিং পয়েন্টের সঙ্গে ৫০ পয়েন্ট যোগ করলে আপনি মোট পয়েন্ট পাবেন। হারলে সেই দলের রেটিং পয়েন্টের সঙ্গে ৫০ বিয়োগ করলে পাবেন মোট পয়েন্ট। র‍্যাঙ্কিংয়ের দুইয়ে থাকা ভারতের রেটিং পয়েন্ট ১১৭। প্রতিটা ম্যাচ জিতলে বাংলাদেশ পাবে ১৬৭ পয়েন্ট, হারলেও পাবে ৬৭ পয়েন্ট। ওদিকে একই নিয়মে শ্রীলঙ্কার (রেটিং পয়েন্ট ১০৬) বিপক্ষে প্রতিটা ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পাবে ১৫৬ পয়েন্ট, হারলে ৫৬ পয়েন্ট।
বাংলাদেশের জন্য সুখবর হলো, ভারতের বিপক্ষে সিরিজটা ২-১ ব্যবধানে হারলেও তাদের রেটিং পয়েন্ট হবে ৮৯। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে চলে যাবে সাতে। ২-১ সিরিজ জিতলে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট হবে ৯৩। আর বাংলাওয়াশ করতে পারলে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট হবে ৯৬। ছয়ে থাকা ইংল্যান্ডের রেটিং পয়েন্টও ৯৬। অবশ্য একই সময় তারা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও সিরিজ খেলছে, যে সিরিজের প্রথম ম্যাচে এরই মধ্যে পেয়েছে বিশাল জয়। ইংল্যান্ড নিয়ে না ভাবলেও তাই চলছে।
পাকিস্তানেরও কিন্তু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পয়েন্ট বাড়ানোর সুযোগ থাকছেই। জুলাইয়ের সেই সময়টায় বাংলাদেশও খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে বাংলাদেশ প্রতিটি ম্যাচ জিতলে পাবে ১৬২ পয়েন্ট, হারলে শুধু ৬২ পয়েন্ট। প্রতিটা ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ম্যাচটা বৃষ্টিতে ভেসে না যাওয়া। কারণ ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ যদি দুটো ম্যাচ হারে আর একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যায়, তাহলে পাকিস্তান উঠে আসবে আটে, বাংলাদেশ নেমে যাবে নয়ে! কীভাবে? দুটো ম্যাচ হারলেও বাংলাদেশ পাবে ১৩৪ পয়েন্ট। এখন বাংলাদেশের মোট পয়েন্ট ২৮ ম্যাচে ২৪৭১। দুই ম্যাচ হারলে হবে ৩০ ম্যাচে ২৬০৫। অর্থাৎ​ রেটিং পয়েন্ট হবে ৮৭! ভগ্নাংশের দিক দিয়ে এগিয়ে থেকে ওপরে উঠবে পাকিস্তান। আর ভারতের কাছে ধবল ধোলাই হলে রেটিং পয়েন্ট নেমে হয়ে যাবে ৮৬।
আগামীকাল প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে শ্রীলঙ্কা সফর শুরু করার আগে পাকিস্তান কোচ ওয়াকার তাই বলছেন, ‘এই সিরিজটা চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে কোয়ালিফাই করার জন্য বিশেষ একটা সুযোগ আমাদের জন্য। আমি আত্মবিশ্বাসী, চ্যাম্পিয়নস ট্রফির জন্য আমরা কোয়ালিফাই করবই। আমাদের ৩-২ ব্যবধানে জিততেই হবে, তবে আমরা সব ম্যাচই জেতার চেষ্টা করব।’
ওয়াকার ভালোই হিসেব কষেছেন ক্যালকুলেটরে। বাংলাদেশ ২-১ সিরিজ হারলেও তাদের রেটিং পয়েন্ট হবে ৮৯। তখন শ্রীলঙ্কাকে পাকিস্তান ৩-২-এ হারালেই কেবল তাদের পয়েন্ট হবে ৯০। নয়ে নেমে যাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু পাকিস্তান ৩-২-এ সিরিজ হারলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেছনেই পড়ে থাকবে।
ভারতের বিপক্ষে সিরিজ তো বটেই, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজেও বাংলাদেশ কেমন করছে, পাকিস্তানের পাশাপাশি তা অধীর আগ্রহে তাকিয়ে দেখবে ওয়েস্ট ইন্ডিজও। বাংলাদেশও তাকিয়ে থাকবে পাকিস্তানের দিকে।

Post A Comment: