কোপার ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল এ দুটি। আর্জেন্টিনা-উরুগুয়ে লাতিন ফুটবলের ‘ঐতিহাসিক’ প্রতিদ্বন্দ্বীও। দুই দলের খেলা বারুদ ছড়ায়, আবেগে মথিত করে দুই দেশের মানুষকে। গত কোপায় এই উরুগুয়ের কাছে হেরেই কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় হয়েছিল আর্জেন্টিনার। এবার অবশ্য গ্রুপসঙ্গীদের বিপক্ষে শেষ হাসি মেসির দলেরই। গতকাল মঙ্গলবার চিলির ‘লা সেরেনা’য় উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। এই জয়ে প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারানোর পর আরাধ্য জয়টি তো পাওয়া গেলই, মোটের ওপর গত আসরের হারের বদলাটাও বেশ ভালোভাবেই নিয়ে নিল জেরার্ডো মার্টিনোর শিষ্যরা।


ইতিহাস বলছে, কোপা আমেরিকায় পনেরোবার শিরোপা হাত দিয়ে ছুঁয়েছে উরুগুয়ে। আর্জেন্টিনার ঘরে গেছে উরুগুয়ের চেয়ে একটি কম—চৌদ্দটি শিরোপা। তাই প্রথম থেকেই সবাইকে তাতিয়ে দিল ম্যাচটি। উরুগুইয়ান দলে সুয়ারেজ না থাকলেও আর্জেন্টিনা ছিল পূর্ণশক্তিরই। মেসি কাল খেলেছেন তাঁর মতোই। বারবার প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙেছেন। পাসের পর পাস দিয়ে গেছেন প্রতিপক্ষকে। কিন্তু গোল কিনা মাত্র একটি। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ক্লাব বার্সেলোনার সঙ্গে পার্থক্যটা খুব ভালোভাবেই টের পাচ্ছেন তিনি। উরুগুয়ে যে ছেড়ে কথা বলেছে তাও কিন্তু নয়। বরং দলটি চেষ্টা করেছে মেসির দাপটের মধ্যেও বল দখলে রেখে খেলতে। প্রথমার্ধে মেসির বেশ কয়েকটি প্রয়াস ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় মাঠে মারা যায়। একবার মেসির বাড়ানো ক্রসে আগুয়েরোর হেড বাইরে দিয়ে চলে যায়। উরুগুয়েও সুযোগ বের করেছিল। ডিয়েগো গোদিনের একটি হেড হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট। প্রথমার্ধের শেষ দিকে কাভানি ব্যর্থ না হলে এগিয়ে যেতে পারত উরুগুয়েই।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলাটির নিয়ন্ত্রণ নেয় আর্জেন্টাইনরা। বাড়াতে থাকে আক্রমণের ধার। ৫৬ মিনিটে বের করে নেয় বহু আরাধ্য গোলটি। গোলটি ছিল পুরোপুরিই ‘ম্যানচেস্টার সিটিময়’।
ম্যানচেস্টার সিটির দুই খেলোয়াড়ের যুগলবন্দীতেই এই গোল। পাবলো জাবালেতার ক্রস থেকে আগুয়েরোর হেড আশ্রয় নেয় উরুগুয়ের জালে। গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর দুটি সুযোগ হাতছাড়া করে উরুগুয়ে। প্রথমবার তুলনামূলক সহজ সুযোগ পেয়েও তা বাইরে মেরে নষ্ট করেন রোলান। একটু পরেই গঞ্জালেসের শটের সামনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে যান আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরো।
সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও ম্যাচের শেষ দিকেও আর্জেন্টিনা নিজেদের আক্রমণের ধার কিন্তু কমায়নি। মেসি বারবারই ঢুকে পড়ছিলেন উরুগুয়ের সীমানায়। কিন্তু ওই যে যোগ্যতম সহযোগীর অভাব! উরুগুয়েকে ব্যতিব্যস্ত করেও গোলের সংখ্যাটি শেষ অবধি আর বাড়ানো যায়নি।

Post A Comment: