শ্বশুরবাড়ি যেতে ভোটার কার্ড
শ্বশুরবাড়ি যেতে ভোটার কার্ড


কলকাতার নদিয়ার হোগলবেড়িয়া সীমান্তে কাঁটাতারের ওপারে ঢুকতে গেলে বিএসএফকে দেখাতে হয় ভোটার কার্ড। এ পর্ব থেকে বাদ পড়েন না জামাইবাবুরাও। জানাতে হয়, জামাই কতদিন থাকবেন শ্বশুরবাড়িতে। আর এসব কারনেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিয়ের পরেই জামাইকে বলে দেন ভোটার কার্ডের বিষয়টি। স্থানীয় বাসিন্দা তথা হোগলবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য সিপিএমের বুদ্ধদেব মণ্ডল জানান, বিয়ে, দ্বিরাগমন থেকে শুরু করে জামাইষষ্ঠী যখনই জামাই আসবেন, তখনই তাঁকে ভোটার কার্ড দেখাতে হবে। 

জানা গেছে, কার্ড থাকলেও সমস্যা যে একেবারে মিটে যায় এমন নয়। জামাইয়ের হাতে ভোটার কার্ড রয়েছে। কিন্তু বিএসএফের হয়তো মনে হল, ভোটের কার্ডের ছবির সাথে জামাইয়ের মুখের মিল নেই। তখন খবর যায় শ্বশুরবাড়ি। হয়ত অনেক দূর থেকে ছুটতে ছুটতে কাঁটাতারের ওপারে হাজির হন শ্বশুরমশাই। তিনি গিয়ে জামাইকে সনাক্ত করেন। তারপরেই রেহাই পান জামাই। হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। ভৌগোলিক ভাবে চরমেঘনা আর পাঁচটা গ্রামের মতো নয়। মেঘনা বিএসএফ ক্যাম্প থেকে প্রায় একশো মিটার দূরে ইন্দো-বাংলাদেশ বর্ডার রোড, কাঁটাতারের বেড়া। 
পাশেই রয়েছে বিএসএফের নজরদারি চৌকি। সেখানে ভোটার কার্ড দেখিয়ে বিএসএফের অনুমতি নিয়ে কাঁটাতারের গায়ের লোহার গেট থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে গেলে চরমেঘনা। গ্রামের পিছনে মাথাভাঙা। তারপরেই বাংলাদেশ। বিএসএফের ৪৩ ব্যাটেলিয়নের এক কর্তা জানান, স্থানীয় মানুষের আবেগকে সম্মান দিয়েও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার কথাটাও মনে রাখতে হয়।

Post A Comment: