শহরে বাড়ছে স্বাস্থ্য বৈষম্য
শহরে বাড়ছে স্বাস্থ্য বৈষম্য

নগর বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, স্থায়ী বসতি না থাকার কারণে সরকারি নীতি ও উন্নয়ন কর্মসূচির বাইরে থাকছে শহরের বস্তির মানুষ। তারা সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পায় না। বস্তিবাসীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরে স্বাস্থ্য বৈষম্যও বাড়ছে।


আজ সোমবার ১২ তম আন্তর্জাতিক নগর স্বাস্থ্য সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের একাধিক অধিবেশনে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল রোববার থেকে চার দিনের এই সম্মেলন শুরু হয়েছে।

‘নগর স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ’ শীর্ষক প্লানারি অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের কলোম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লীন ফেডম্যান বলেন, গ্রাম থেকে নগরে যারা আসছেন তাদের অনেকেই বৈধ বা স্থায়ী জমিতে বসবাস করতে পারেন না। তাদের বড় অংশ কাজ করেন অনানুষ্ঠানিক খাতে, যেখানে স্বাস্থ্য ঝুঁকি অনেক বেশি। সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিরও বাইরে থাকেন বস্তিবাসী। এসব কারণে সরকারের আনুষ্ঠানিক স্বাস্থ্যসেবা থেকেও বঞ্চিত হয় তাঁরা।

ভারত, কেনিয়া, সেনেগাল ও নাইজেরিয়ার কিছু বস্তিতে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করার সময় বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের পারিবারিক স্বাস্থ্য কর্মসূচির ব্যবস্থাপক ক্লেয়া টি ফিঙ্কেল বলেন, দাতারা বস্তিতে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে কম। বস্তিতে ভেঙে ভেঙে অল্প স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়, তাতে ধারাবাহিকতার অভাব আছে।

এর আগে ‘নগরস্বাস্থ্যের আর্থসামাজিক ও পরিবেশগত নির্ধারকসমূহ’ শীর্ষক অধিবেশনে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, নগরের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার দায়িত্ব স্থানীয় সরকারের। কিন্তু গ্রামে কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও শহরে এই রকম কোনো অবকাঠামো নেই। সর্বশেষ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপের তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, আগের চেয়ে প্রসবপূর্ব সেবা নেওয়ার হার বেড়েছে। তবে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে প্রসবপূর্ব সেবা নেওয়ার হার কমেছে। এর অর্থ, পেশাজীবী স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে মানসম্পন্ন সেবা মানুষ কম পাচ্ছে।
ঢাকাকে বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল মহানগর উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংকের ওয়াশিংটন কার্যালয়ের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা শাখার জ্যেষ্ঠ পরিচালক টিম ইভান্স বলেন, বস্তিবাসীরা স্বাস্থ্য বৈষম্যের শিকার। তিনি বলেন, নগরে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য সুশাসন একটি বড় বিষয়।
বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক রশীদ-ই-মাহবুবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নগরের পুষ্টি পরিস্থিতি বিষয়ক অধিবেশনে ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলিনার কারার হাসান বলেন, ২০১৩ সালের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে বাংলাদেশের বস্তির শিশুদের পুষ্টি পরিস্থিতি জাতীয়ভাবে শিশু পুষ্টি পরিস্থিতির চেয়ে খারাপ। একই অধিবেশনে ভারতের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর পপুলেশন সায়েন্সেস-এর কাকলী বরকোটোকি বলেন, ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের বস্তিবাসীর বছরব্যাপি খাদ্যের নিশ্চয়তা আগের চেয়ে বেড়েছে। কিন্তু তাদের খাদ্যে বৈচিত্র্য বাড়েনি।

সংবাদপত্র, রেডিও, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রজনন স্বাস্থ্য কী করছে, কতটুকু গুরুত্ব দিচ্ছে, তাদের কাজের প্রভাব কী তা নিয়ে পৃথক একটি অধিবেশনে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়। লজ্জা ভেঙে, কুসংস্কার ভেঙে কিশোর-কিশোরীরা কীভাবে নানা উদ্যোগ থেকে প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে তা জানা যায় ‘মায়া আপা’, ‘শেয়ার-নেট বাংলাদেশ, ‘আমি ও আমার বিশ্ব’ এবং বিবিসি বাংলার ‘দশ উনিসের মোড়’ উপস্থাপনা থেকে। এই অধিবেশনে প্রথম আলোর পরামর্শক সম্পাদক কামাল আহমেদ বলেন, ভালো যে কোনো কাজের সঙ্গে প্রথম আলো প্রথম থেকেই ছিল, আছে। প্রজনন স্বাস্থ্যকে বিষয় হিসেবে প্রথম আলো বিশেষ গুরুত্ব দেয়।

Post A Comment: