মানুষের ডিম???
মানুষের ডিম???

বাস্তবে নেই কিন্তু অনেকেই পায় যে জিনিস তাঁর নাম ঘোড়ার ডিম। কিন্তু, যদি শোনেন 'মনুষ্যডিম্ব'-র কথা, তাহলে হয়ত কানে শুনতে সমস্যা হয়েছে বা বক্তার বলতে সমস্যা হয়েছে বলে ধারণা করতে পারেন। আসলে ব্যাপাটি কি ভালোভাবে জেনে নেওয়া যাক।


ষাটোধর্ব এক বৃদ্ধ মূত্রজনিত সমস্যা নিয়ে ওয়াশিংটনের ডিসি হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তিনি ডাক্তারদের জানান, এই পীড়ায় গত ২০ বছর ধরে তিনি ভুগছেন। পরীক্ষা করে দেখা যায় তাঁর পেটে ডিমসদৃশ একটা পিণ্ডের উপস্থিত।

অস্ত্রোপচারের পর ডাক্তাদের চোখ ছানাবড়া! পেটের ভিতরে একটা ডিম! আকার আয়তনে রাজহাসের ডিমের থেকেও বড়। প্রায় সাড়ে তিন ইঞ্চি লম্বা। ওজনও প্রায় হাফ পাউন্ড।

ডাক্তাররা বলছেন, Peritoneal loose body। আসলে চর্বি জাতীয় বস্তু। ছোট বয়সে কোনো সময় কোনো ভাবে এই ফ্যাটের টুকরোটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর পর ক্রমশ ক্যালসিয়ামের আস্তরণ পড়ে ডিমের আকার নেয়।

নিউ ইংল্যান্ড জার্নালে প্রকাশিত নিবন্ধে ওয়াশিংটনের ডিসি হাসপাতালের ডাক্তার রাচেল সুসমান জানান, পেটের মধ্যে এ ধরনের ডিমসদৃশ মাংসল পিণ্ডের উপস্থিতি নতুন কিছু নয়। তবে, এমন 'দৈত্যাকৃতি' ডিম তাঁরা আগে দেখেননি বলেই দাবি করেন।

রাচেলর ভাষ্য মতে, ঝিনুকের পেটে মুক্ত যেমন থাকে, ছোট অবস্থায় এটা অনেকটা তেমনই দেখতে লাগে। খুব একটা সমস্যা হয় না। কিন্তু, আকারে বড় হলে, মূত্রথলিতে চাপ পড়ে। ফলে, ঘনঘন প্রসাবের চাপ পায়। আবার প্রসাব করতে গেলে, আটেক আটকে যায়। পরিষ্কার হয় না। অস্ত্রোপচার করালে আর সেই সমস্যা থাকে না।

মনুষ্যডিম্বের ধারক সেই বৃদ্ধেরও কোনো সমস্যা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। ওই বৃদ্ধ এখন ভালোই আছেন।

Post A Comment: