হেরে  গেলো বাংলাদেশ
হেরে  গেলো বাংলাদেশ

ম্যাচ শেষে ম্যাটের ওপর উপুড় হয়ে কাঁদছিলেন বাংলাদেশের খেলোয়াড় হরজিৎ বিশ্বাস। কোচ ইমদাদুল হক বারবার সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন, ‘মন খারাপ করো না। তোমরা ভালো খেলেছ।’ প্রায় পাঁচ বছর পর আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে যা খেলেছে বাংলাদেশ, তা প্রশংসাযোগ্যই। যদিও কাল গ্রুপের শেষ ম্যাচে ৩-২ সেটে নেপালের কাছে হেরে সেমিফাইনালে ওঠা হলো না বাংলাদেশের।

আজ সেমিফাইনালে নেপালের মুখোমুখি তুর্কমেনিস্তান, আফগানিস্তানের প্রতিপক্ষ মালদ্বীপ।
মিরপুর ইনডোরে প্রথম সেট ২৫-১৫ পয়েন্টে জিতে দিনটি নিজেদের করে নেওয়ার আভাস দিচ্ছিল কাল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় সেট হারে ২১-২৫ পয়েন্টে। তৃতীয় সেটে ২৫-২৩ ব্যবধানে জিতে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি, শেষ দুই সেটে হার ১৬-২৫ এবং ১৫-১১ পয়েন্টে।
বাংলাদেশের অধিনায়ক সাঈদ আল জাবির হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে খেলতে পারেননি শেষ সেট। সমস্যা ছিল ব্লকিং এবং লিফটিংয়ে। তবে হেরেও ছেলেদের খেলায় খুশি কোচ ইমদাদুল হক, ‘ওরা যা খেলেছে তাতে খুশি। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টাই করেছি।’ হতাশ অধিনায়ক জাবির, ‘আমরা অনেক ব্লক মিস করেছি। ছোটখাটো কিছু ভুলেই হেরেছি।’
গ্যালারিতে ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড় ইয়াদ আলী। জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত এই খেলোয়াড় বললেন, ‘অভিজ্ঞতার কাছেই হেরেছে বাংলাদেশ। এদের দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্পের প্রয়োজন।’
এশিয়ান ভলিবল চ্যাম্পিয়নশিপে খেলতে আসার আগ্রহই ছিল না ভূমিকম্পবিধ্বস্ত নেপালের ভলিবল দলের। মাত্র তিন দিন অনুশীলন করে তারা ঢাকায় এসেছে। বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের সহযোগিতায় এসে সেই নেপালই উঠল সেমিফাইনালে। কোচ কপিল কিশোর শ্রেষ্ঠ জয়ের কৃতিত্ব দিচ্ছেন খেলোয়াড়দের, ‘এখানে এসে কিছু করে দেখাতে হবে, জিততে হবে শোকাতুর দেশের জন্য, এটাই ছিল আমাদের অনুপ্রেরণা। ছেলেরা শুধু শরীর দিয়ে নয়, হৃদয় দিয়েও খেলেছে।’
খুশির চোটে গ্যালারি থেকে এক নেপালি সমর্থক লাফ দিয়ে নিচে পড়ে আহত হন। দ্রুত তাঁকে নেওয়া হয় হাসপাতালে।

Post A Comment: