নায়ক মিঠুন আর নেই
নায়ক মিঠুন আর নেই

বাংলাদেশ সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, বিশিষ্ট চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ও গীতিকার চিত্রনায়ক শেখ আবুল কাশেম মিঠুন আর নেই। কলকাতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার রাত দুইটায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। 

মিঠুনের ছোট ভাই শেখ ফারুক হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, "প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তার লাশ নিয়ে বাংলাদেশে আনার পর জানাজার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে।" শেখ আবুল কাশেম মিঠুনের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার দরগাহপুরে। সেখানেই তার দাফন হতে পারে বলে জানা গেছে। বেশ কিছুদিন ধরে কিডনি ও উচ্চ রক্তচাপজনিত রোগে ভুগছিলেন মিঠুন। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসা সত্ত্বেও কিডনি এবং লিভারের তেমন উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার্থে তিনি গত ১৯ মে কলকাতায় যান। সেখানে প্রথমে বিশিষ্ট কার্ডিয়াক সার্জন প্রফেসর ডা. পি বি শুকলা এবং পরে কোঠারী হাসপাতালের বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. শেখ শামীমুল হকের চিকিৎসাধীন ছিলেন। 
বাংলা চলচ্চিত্রের এক সময়ের জনপ্রিয় নায়ক মিঠুন ১৯৫৮ সালের ১৮ এপ্রিল সাতক্ষীরার পাইকগাছায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮০ সালে ‘তরুলতা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মিঠুন রুপালি পর্দায় আসেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে— ‘ঈদ মোবারক’, ‘ভেজা চোখ’, ‘নিকাহ’, ‘কুসুমকলি’, ‘প্রেম প্রতিজ্ঞা’, ‘বেদের মেয়ে জোছনা’, ‘নিঃস্বার্থ’, ‘সাক্ষাৎ’, ‘স্বর্গনরক’, ‘ত্যাগ’, ‘চাকর’, ‘জিদ’, ‘চাঁদের হাসি’, ‘নরম গরম’, ‘গৃহলক্ষ্মী’, ‘এ জীবন তোমার আমার’, ‘খোঁজ খবর’, ‘ছোবল’, ‘কসম’, ‘দিদার’ ও ‘পরিচয়’। মিঠুনের রচিত কাহিনী ও চিত্রনাট্যে নির্মিত সিনেমার মধ্যে ‘ঈদ মোবারক’, ‘মাসুম’, ‘প্রেম প্রতিজ্ঞা’, ‘চাকর’, ‘কুসুমকলি’, ‘দস্যু ফুলন’, ‘জেলহাজত’, ‘তেজ্যপুত্র’, ‘সর্দার’, ‘অন্ধ বধূ’ উল্লেখযোগ্য। তবে বিগত দুই দশক মিঠুন জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত দলটির সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গেই সম্পৃক্ত ছিলেন।

Post A Comment: