সাত দিন ধরে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন আয়েশা। গর্ভবতী হয়েও নিজের শরীর ও অনাগত শিশুর পরিচর্যা, সঠিক লালন-পালন সম্পর্কে সচেতন নয় সে। রক্তশূন্যতা, শারীরিক দুর্বলতা ও জ্বরে ভুগছে সে।
দারিদ্র্য, অভিভাবকদের অসচেতনতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে শুধু আয়েশাই নয়, পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় এমন অনেক কিশোরী রয়েছে যাদের কম বয়সে বিয়ে হচ্ছে, এরপর তারা মা হচ্ছে।
পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি) মাহামুদুর রহমান বলেন, অল্প বয়সে গর্ভধারণের কারণে প্রসবকালীন জটিলতাসহ গর্ভপাত, মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু বৃদ্ধি পায়।
বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের চিকিৎসা সহকারী আবদুল ওহাব জানান, গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে ৪৭ জন গর্ভবতী এখানে সেবা নিয়েছে। পাঁচজনের সন্তান প্রসব হয়েছে এখানে। তবে সেবা নিতে আসা অনেকের শারীরিক গঠনে কিশোরী মনে হলেও তারা নিজেদের বয়স বাড়িয়ে বলেছে।
সিভিল সার্জন এ এম মজিবুল হক বলেন, নিরাপদ প্রসব ও স্বাস্থ্যবান শিশু জন্মদানের সঙ্গে গর্ভবতীর প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তবে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষের অসচেতনতার কারণে কম বয়সে বিয়ে, মা হওয়ার ঘটনা ঘটছে। এর ফলে প্রসূতি মা ঝুঁকির মুখে পড়ে।

Post A Comment: