আইআরএল ডলফিন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত ছোট ছোট গ্রুপের সম্মিলিত একটা সম্প্রদায়ের মতো বাস করে। ছবি: জিনিউজকার সঙ্গে বন্ধুতা হবে আর কার সঙ্গে হবে না, খুবই সচেতনভাবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় ডলফিন। মানুষের মতোই ডলফিনও কিছু ডলফিনের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন আচরণ করে আর কারও কারও সঙ্গে এড়িয়ে চলার মনোভাব প্রকাশ করে। তবে, ডলফিনদের বন্ধুত্বের নেটওয়ার্ক অনেক জটিল ও খুবই গতিশীল। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ইন্ডিয়ান রিভার লেগুন বা আইআরএল ডলফিনদের ওপর গবেষণা চালিয়ে সম্প্রতি ডলফিনের বন্ধুত্ব নিয়ে এমনটাই জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষক এলিজাবেথ মারডক টিটকম্ব জানিয়েছেন, এই গবেষণা থেকে পাওয়া একটা বিশেষ দিক হলো, আটলান্টিক মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত এই ইন্ডিয়ান রিভার লেগুনের সরু ও লম্বা বিশেষ আকৃতি এখানকার ডলফিনদের জীবনযাপনের ওপর বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। জিনিউজ এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে জানিয়েছে।

বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে, উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত ইন্ডিয়ান রিভার লেগুনের বিশেষ বিশেষ এলাকাগুলো দখল করে রাখার প্রবণতা আছে সেখানকার এমন কয়েকটি ডলফিন সম্প্রদায়ের। আলাদা আলাদা অনেকগুলো ডলফিন গ্রুপের একটা জটিল নেটওয়ার্কের মধ্য দিয়ে এই সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য টের পাওয়া যায়।

গবেষক দলটি জানিয়েছে, আইআরএল ডলফিন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত ছোট ছোট গ্রুপের সম্মিলিত একটা সম্প্রদায়ের মতো বাস করে। গবেষক টিটকম্ব বলেন, ইন্ডিয়ান রিভার লেগুনের সবচেয়ে সরুতম এলাকাগুলো দখল করে থাকা ডলফিনেরাই সবচেয়ে বেশি দৃঢ় সামাজিক নেটওয়ার্কের মধ্যে বসবাস করে থাকে। বিষয়টা অনেকটা একটা ছোট্ট শহরে বসবাস করা মানুষদের মতো, যেখানে প্রায় সবাই সবাইকে চেনে, ফলে নতুন করে মেশার মতো খুব বেশি মানুষ সেখানে থাকে না।

ডলফিনের বন্ধুত্বের ধরন নিয়ে জানার পাশাপাশি এই গবেষণা থেকে এই জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণীটির সামাজিক যোগাযোগের প্রক্রিয়া এবং ডলফিনের সংগঠিত হওয়ার পদ্ধতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন ওই গবেষকেরা। নিজস্ব পরিবেশের সঙ্গে ডলফিনের অভিযোজন এবং পারস্পরিক যোগাযোগে ডলফিনদের সংকেত ব্যবস্থা সম্পর্কেও জানার পথ পাওয়া গেছে এই গবেষণা থেকে। গবেষণাপত্রটি মেরিন ম্যামাল সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

Post A Comment: