সুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেন আয়োজকদের শঙ্কা ছিল বৃষ্টি আর বজ্রপাত নিয়ে। আকাশ থেকে বিদ্যুতের চমক ধাতব গলফ স্টিকের টানে নেমে এসে কোনো দুর্ঘটনা ঘটিয়ে দেয়নি ঠিকই, কিন্তু বৃষ্টির কারণে ভেজা মাটি আর ঘাস এবং জোরালো বাতাসেই বাংলাদেশের গলফারদের হলো সর্বনাশ। কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের চেনা কোর্সও বৃষ্টির পর তাঁদের কাছে হয়ে গেল অচেনা। যেখানে নিয়মিতই পারের চেয়ে অনেক কম খেলেন সিদ্দিকুর রহমান, জামাল হোসেন মোল্লা, মোহাম্মদ সজীব, মোহাম্মদ নাজিমরা, সেখানে একজন বাদে তাঁদের সবাই খেলেছেন ওভারপার।
প্রথম দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশি গলফারদের মধ্যে সবার ওপরের নামটা দুলাল হোসেনের।  তিনি খেলেছেন পারের সমান। যদিও বৃষ্টির কারণে খেলায় বিঘœ ঘটায় কাল প্রথম রাউন্ডের খেলা শেষ করতে পারেননি তিনি। ১২ হোল শেষ করেছেন তিনি, আজ প্রথম রাউন্ডের বাকি ৬ হোলের খেলা শেষ করে তারপর দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলা শুরু করবেন দুলাল। তবু লিডারবোর্ডে বাংলাদেশিদের মধ্যে তাঁর নামটাই সবার ওপরে, ১৩ জনের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে তাঁর অবস্থান ২০তম।
ভোর সাড়ে ৬টায় খেলা শুরুর এক ঘণ্টা পর বৃষ্টি নামলেও তাতে খেলা চালিয়ে যান রেফারিরা। তবে সেই সিদ্ধান্তে বেশিক্ষণ অটল থাকতে পারেননি তাঁরা। দুই দফায় বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ থাকার পর সকাল ১১টা ১০ মিনিটে খেলা আবার শুরু হয় এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে নির্বিঘেœ। মেঘলা আকাশে জমে থাকা কালোমেঘ বৃষ্টিতে কাটলেও বাংলাদেশের গলফারদের মনের মেঘ তাতে কাটল না! বরং চেনা মাঠই হয়ে উঠল অচেনা। ৭ ওভার পার খেলে প্রথম রাউন্ডের খেলা শেষ করে আসা নাজিম বলছিলেন, ‘বৃষ্টিটাই আমাকে শেষ করে দিল। আমি দুইবার খেলা শুরু করতে মাঠে গিয়েও ফিরে এসেছি, তিন ঘণ্টা অপেক্ষায় বসে থাকতে হয়েছে।’ এখানেই ১৪ আন্ডার পার খেলেছেন  নাজিম, ৭ ওভার খেলার কারণ হিসেবে বললেন, ‘বৃষ্টি হলে তো আমরা সচরাচর খেলি না, এমনি অনুশীলন করি। তবে আমাদের খেলা উচিত ছিল।’ শুধু তা-ই নয়, এশিয়ান ট্যুর কর্তৃপক্ষ কোর্সের একটু অদলবদল করাতে সেটাও মানসিক একটা বাধা হিসেবে কাজ করছে তাঁদের মনে। ‘হোল থ্রি আগে পার ৫ ছিল, এখন সেটা পার ৪ করা হয়েছে। এখন এখানে সবাই জোরে মারতে চায়। এ ছাড়া ৪ নম্বর হোলে ডানদিকে আমরা শর্টকাট মারতাম, এখন সেখানে ওবি (ওভার বাউন্ডারি) করে দেওয়া হয়েছে। সেদিকে বল গেলে ২ স্ট্রোক পেনাল্টি। সেটাও একটা মানসিক বাধা হিসেবে কাজ করে’, বলছিলেন নাজিম। এই জায়গা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোটা যে কঠিন সেটা ভালো করেই বুঝতে পারছেন, তবে তিনি আশাবাদী দেশের অন্য গলফারদের নিয়ে।
দুইবার এশিয়ান ট্যুরের টুর্নামেন্টের শিরোপাজয়ী সিদ্দিকুর রহমান প্রথম রাউন্ডের খেলা শেষ করেছেন ১ ওভার পারে। ১৬ জনের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে ৩৩তম অবস্থান সিদ্দিকের। তবে পরের রাউন্ডগুলোতে ভালো খেলতে আশাবাদী সিদ্দিক, ‘আসলে দেশের মাটিতে খেলা যেমন একটা অনুপ্রেরণা, তেমনি একটা চাপও। সেই চাপটা টের পাচ্ছি। তবে আজকে (গতকাল) মার্দান মামাতের দিন গেছে, সামনের দিনগুলোতে আমাদেরও যে কেউ ভালো করতে পারে।’   
বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেনে অংশ নিচ্ছেন পাঁচজন অ্যামেচার বাংলাদেশি গলফারও। তাঁদেরই একজন দিল মোহাম্মদ, যাঁর সুবাদে দিনের অনেকটা সময় লিডারবোর্ডে ওপরের দিকে ছিল বাংলাদেশের পতাকা। ১৫তম হোল পর্যন্ত ১ আন্ডার পার খেলেছিলেন দিল মোহাম্মদ, আশা করা হচ্ছিল পারের চেয়ে কম খেলেই হয়তো প্রথম রাউন্ডের খেলা শেষ করবেন তিনি। কিন্তু শেষ ৩ হোলে বোগি (পারের চেয়ে এক শট কম), পার ও বোগি খেলায় শেষ পর্যন্ত ১ ওভার পারে প্রথম রাউন্ড শেষ হয় তাঁর। এক ওভার পার খেলেছেন বাংলাদেশের পেশাদার গলফার সজীব আলীও। তাঁরও অবস্থান ৩৩তম। সজীবও দুষলেন বৃষ্টিকে, ‘ভেজা ঘাসের কারণে বল অনেক আস্তে যাচ্ছিল, পাটিংটা ঠিকমতো হচ্ছিল না। অনেক সময় পাটিং গ্রিনে গিয়ে বেশি স্ট্রোক লাগিয়ে ফেলছিলাম।’ তবে আবহাওয়া একটু ভালো হলে নিজের সেরা চেহারায় ফিরতে সময় লাগবে না বলেই আশাবাদ সজীবের, ‘আমাদের একটু অসুবিধা হয়েছে। তবে আবহাওয়া ভালো হলে আমাদের যে কেউই ৫, ৬ আন্ডার পার খেলে ব্যবধানটা কমিয়ে আনার সামর্থ্য রাখে।’ বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেন শুরুর আগে খানিকটা অসুস্থ ছিলেন জামাল হোসেন মোল্লা। তিনি প্রথম রাউন্ড শেষ করেছেন ২ ওভার পার খেলে।
প্রথমবারের মতো কুর্মিটোলার গলফ কোর্সে খেলা মার্দান মামাত, কেসি ও’টুলরা প্রথম রাউন্ড শেষ করেছেন পারের চেয়ে ৫ শট কম খেলে। অথচ চেনা সবুজেই দেশের প্রথম এশিয়ান ট্যুর টুর্নামেন্টে হতাশার দিন কাটিয়েছেন বাংলাদেশের গলফাররা। পারের কম খেলতে পারেননি কেউই। কারণ হিসেবে কেউ বলছেন বৃষ্টি, কেউ-বা বলছেন কোর্সের নতুন বিন্যাসের সঙ্গে অনভ্যস্তার কথা। কারণ যা-ই হোক, প্রথম দিন শেষে শিরোপার দৌড়ে তাঁরা অনেকটাই পিছিয়ে।

Post A Comment: