দুর্দান্ত এক সুইংয়ে বলটাকে লক্ষ্যের দিকে উড়িয়ে মারলেন দুলাল হোসেন। আর এতে যেন দেশের প্রথম এশিয়ান ট্যুরে বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্নটাকে কাছাকাছিই আনলেন এই তরুণ<a href=গলফ র। কাল কুর্মিটোলা গলফ কোর্সে l প্রথম আলো" src="http://paimages.prothom-alo.com/contents/cache/images/350x0x1/uploads/media/2015/05/29/d0bdd3fc086eadd48ff9e53d6856ba29-10.jpg" itemprop="image" width="350" />৩১ গলফারের কারোরই স্কোর আন্ডার পার ছিল না, প্রথম দিনটি বাংলাদেশের জন্য ছিল হতাশার। সেই হতাশার আস্তরণের খানিকটা খসিয়ে দিল কাল দ্বিতীয় দিন এবং দ্বিতীয় রাউন্ড। না, গলফের পেশাদার জগৎ যাঁর মাধ্যমে বাংলাদেশকে চেনে, সেই সিদ্দিকুর রহমান নায়ক নন, নায়কের নাম দুলাল হোসেন। দ্বিতীয় রাউন্ডে প্রথম বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেনে রেকর্ড আন্ডার ৮ স্কোর করেছেন, দুই রাউন্ড মিলিয়ে আন্ডার ৬। এতেই লিডার বোর্ডে পাঁচ নম্বরে নাম উঠে গেছে দুলালের। শুরুর দিনেই রং হারিয়ে ফেলা শিরোপাস্বপ্নটা তাঁর চোখ দিয়েই যেন আবার উজ্জ্বলভাবে দেখতে শুরু করেছে বাংলাদেশ।
দুপুরে দুলাল যখন গলফ কমপ্লেক্সে সংবাদমাধ্যমের সামনে আনন্দময় অনুভূতির সঙ্গে শিরোপা জয়েরই ছবি এঁকে গেলেন, অদূরে সবুজ কোর্সের মধ্যে সিদ্দিকুরকে পেয়ে বসেছে হলুদ হতাশা। কাটই না মিস করে বসেন! প্রথম রাউন্ড শেষ করেছিলেন এক ওভার-অর্থাৎ পারের চেয়ে এক শট বেশি খেলে। এরই মধ্যে দ্বিতীয় রাউন্ডে ছয় হোলের মধ্যে দুটি বগি করে আরও পিছিয়ে পড়েছেন-পারের চেয়ে মোট বেশি হয়ে গেছে তিন শট। এই ধারা দিনের শেষ পর্যন্ত চললে নির্ঘাত কাট মিস-দর্শক থেকে শুরু করে বলবয়, কর্মকর্তা সবার মনেই শঙ্কার চোরাস্রোত। বজ্রবিদ্যুতের শঙ্কা জাগিয়ে মেঘ হাঁকডাক শুরু করলে লম্বা ভেঁপু বাজিয়ে খেলায় সাময়িক বিরতি টানেন টুর্নামেন্ট পরিচালক। তখন নবম হোলের পাটিং শুরু হওয়ার কথা। দেড় ঘণ্টা পর আবার যখন খেলা আরম্ভ, সিদ্দিকুর বার্ডি করলেন। করতালিতে মুখর চারপাশ, আগের ১৬ ঘণ্টায় এত জোরে মনে হয় শব্দ তোলেনি দর্শকদের হাতগুলো। তিনটি পারের পর আবার হলো বগি, আবার খানিক হতাশা। অবশেষে দিনের দ্বিতীয় বার্ডিটি করে আশা ধরে রাখেন সিদ্দিকুর। দ্বিতীয় দিন শেষে স্কোর ৭২, ঠিক প্রথম দিনের মতো। মোট দুই পার বেশি খেলে কাট পেয়েছেন অবশেষে। টানা চারটি টুর্নামেন্টের পর! দেশের সেরা গলফার ঘরের কোর্সের টুর্নামেন্টে টিকে না থাকলে নিশ্চিতভাবেই রং হারাত বাংলাদেশের প্রথম এশিয়ান ট্যুর। খুশির চেয়ে স্বস্তিই যেন বেশি। দিনের শেষে সিদ্দিকুরও এই কথাটি বলে গেলেন। অবশ্য এখনো দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর আশাটা ছাড়েননি, ‘কাট পেয়ে ভালো লাগছে। এখনো দুই রাউন্ড বাকি আছে, আশা আমি ছাড়িনি।’
সিদ্দিকুর যে মাপের খেলোয়াড়, ঘুরে তিনি দাঁড়াতেই পারেন। তবে কে না জানে, মারদান মামাত, কার্লোস পিজেমদের হটিয়ে বড় পুরস্কারটা নিতে গেলে অনেক অ-নে-ক ভালো করতে হবে। বাংলাদেশের ছয়জন কাট পাওয়া গলফ রের মধ্যে আপাতত সবচেয়ে বড় আশাটার নাম দুলাল হোসেন, দেশকে ২০১০ এসএ গেমসে গলফের দুটি সোনা জেতানো (ব্যক্তিগত ও দলীয়) গলফার। কাল এই কোর্সে মহার্ঘ একটি ইগল করে দুলাল বুঝিয়ে দিয়েছেন, ক্লাব তাঁর কথা শুনছে, শুনতে চাইছে আরকি! ভাগ্যও আছে সঙ্গে। যে বৃষ্টি সিদ্দিকুরের সঙ্গে নিষ্ঠুর রসিকতা করছে, সেই বৃষ্টি দুলালকে যেন চেনেই না!
শিরোপা জয়ের সম্ভাবনায় অবশ্য সবচেয়ে এগিয়ে আছেন সিঙ্গাপুরের মারদান মামাত, দ্বিতীয় রাউন্ড শেষে তাঁর স্কোর আন্ডার ৯। তারপরই স্পেনের কার্লেস পিজেম, স্কোর আন্ডার ৮।

Post A Comment: