যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে সাতজনে পৌঁছেছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত গতির কারণে এ ঘটনা ঘটে। ওয়াশিংটন ও নিউইয়র্কের মধ্যে চলাচলকারী ট্রেনটির ১০টি বগি গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় লাইনচ্যুত হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ট্রেনটির ব্ল্যাকবক্স বিশ্লেষণ করে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড-এনটিএসবি জানায়, ট্রেনটি ঘণ্টায় ১০৬ মাইল বেগে যাচ্ছিল। ওই রেলপথে নির্ধারিত গতি ৫০ মাইল। চালক জরুরি গতি নিয়ন্ত্রক দিয়ে ট্রেনের গতি কমানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কাজ হয়নি। ট্রেনের ১০টি বগি লাইনচ্যুত হয়।
বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো যায়, বোর্ডের কর্মকর্তা রবার্ট সামওয়াল্ট সাংবাদিকদের বলেন, স্টেশনটিতে রেল কোম্পানি অ্যামট্র্যাকের ট্রেন চলাচলের জন্য নির্ধারিত গতি নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর ছিল না। থাকলে এ দুর্ঘটনা ঘটত না।
ফিলাডেলফিয়ার মেয়র মাইকেল নাটার প্রাথমিকভাবে বলেন, এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন মারা গেছে। পরে আরও দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। গতকাল ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা ভয়াবহ দৃশ্য। জীবনে এমন দৃশ্য দেখিনি। আমরা ট্রেনটির পুরো দৈর্ঘ্য বরাবর হেঁটেছি। এর ইঞ্জিনটা বাকি অংশ থেকে পুরোপুরিভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।’

জরুরি বিভাগের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়, ঘটনাস্থল থেকে শতাধিক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। ঘটনার সময় ট্রেনে ২৪০ জনের বেশি যাত্রী ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।


Post A Comment: