ভিন্নখবর ডেস্ক : রামাদিতে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)। গত রোববার জেহাদি দলটি ইরাকের এ শহর দখল করে। স্থানীয় বাসিন্দারা গণমাধ্যমকে জানান, আইএস জেহাদিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরকার সমর্থকদের খুঁজে বের করছে। সরকার সমর্থকদের ঘরবাড়ি, দোকানপাটও লুট করা হচ্ছে। তারা শহরের প্রধান ভবনগুলোতে নিজেদের পতাকা উত্তোলন করেছে এবং কারাগার থেকে বন্দিদের মুক্ত করে দিয়েছে। ওদিকে, ইরাক সরকার এরই মধ্যে রামাদি পুনর্দখলের লড়াইয়ে শিয়া মিলিশিয়াদের মাঠে নামিয়েছে। আইএসের হুমকি মোকাবিলায় ইরাকি জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে মন্তব্য করে সেনবাহিনীতে ভর্তির জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের আহ্বান জানিয়েছেন আবাদি। এছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর যোদ্ধাদের অস্ত্র সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরাককে সহায়তা করার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছেও আবেদন জানিয়েছে ইরাকি মন্ত্রিসভা। এতে ইরাকের সু্ন্িন অধ্যুষিত অঞ্চলে সরকারের পদক্ষেপে আবারো শিয়া ও সুন্নি সংঘাত শুরু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাজধানী বাগদাদ থেকে মাত্র ১১০ কিলোমিটার উত্তরপশ্চিমের শহরটির পুনর্দখল করতে ইরান সমর্থিত কয়েক হাজার মিলিশিয়া রামাদির পূর্ব দিকে জড় হচ্ছে। গত মঙ্গলবার আনবার পুলিশ প্রধান কাদিম আল-ফাহদাউই বলেন, রামাদির কাছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বহু সেনা সদস্য জমায়েত হয়েছে। এ অঞ্চল দিয়েই আইএস বিরোধী সেনা অভিযান শুরু হবে বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে, নতুন যোদ্ধাদের প্রতিহত করতে আইএস জেহাদিরাও প্রস্তুত। রামাদির বাসিন্দারা জানান, আইএস যোদ্ধারা প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করতে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নিয়েছে। সেইসঙ্গে তারা রাস্তায় ভূমিমাইন পোঁতা শুরু করেছে। রামাদির একটি স্কুলের শিক্ষক ৩৭ বছর বয়সী সাঈদ হাম্মাদ আল-দুলাইমি বলেন, আইএস সদস্যরা মাইকে স্থানীয় বাসিন্দা যাদের আত্মীয়-স্বজন কারাগারে ছিল তাদের শহরের প্রধান মসজিদে জড় হয়ে বন্দি স্বজনদের নিয়ে যেতে বলছে। আমি দেখেছি লোকজন বন্দি স্বজনদের ফিরিয়ে আনতে পাগলের মত মসজিদের দিকে ছুটছে। স্থানীয়দের মধ্যে জনপ্রিয়তা বাড়াতে আইএস এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নারীদের কাপড় বিক্রি হয় এমন একটি দোকানের মালিক জসিম মোহাম্মদ বলেন, আইএস জেহাদিরা আমাকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এখন থেকে আমাকে শুধু ইসলামিক ধারার পোশাকই বিক্রি করতে হবে। আইএস যোদ্ধারা স্থানীয়দের জন্য শিগগির খাবার, ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। দুলাইমি বলেন, আমার মনে হয় তারা রামাদির জনগণের মন জয় করার চেষ্টা করছে এবং তাদের শান্তি ও স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। কিন্তু আমি নিশ্চিত এটা খুবই সাময়িক। সামনে খুবই ভয়ঙ্কর দিন অপেক্ষা করছে। যখন সরকারি বাহিনী ও হাশিদ বাহিনী রামাদি পুনর্দখলের জন্য আক্রমণ শুরু করবে তখন আমাদের উভয় পক্ষের অস্ত্রের সামনে পড়তে হবে। আসন্ন সংঘর্ষ থেকে নিজেদের বাঁচাতে ওই এলাকার প্রায় ২৫ হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে। ওই এলাকার হাজার হাজার মানুষ চরম মানবিক সঙ্কটে পড়তে যাচ্ছে বলে সতর্ক করে দিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ জানায়, তারা এসব গৃহহীন মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু সংস্থাটির হাতে তহবিল অনেক কম এবং তাদের ত্রাণও অনেকটাই শেষ হয়ে গেছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ আনবারের রাজধানী রামাদির দখল হারানো ইরাক সরকার ও যুক্তরাষ্ট্র্রের আইএস দমনের কৌশল উভয়ের জন্যই চপেটাঘাত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আইএসর দখল থেকে এ শহর উদ্ধার করতে ইরাক সরকারকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে। আনবার প্রদেশের পশ্চিমে ওই জেহাদিগোষ্ঠীটির সঙ্গে লড়াইরত সরকারি বাহিনীগুলোতে যোদ্ধা স্বল্পতার কারণে আরও অনেক স্বেচ্ছাসেবক সংগ্রহ করার উদ্যোগ প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে বলে গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছে ইরাকি মন্ত্রিসভা, জানিয়েছেন বিবিসি। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজধানী বাগদাদ থেকে মাত্র ১১০ কিলোমিটার দূরের শহর রামাদির পতন ইরাকি সরকার ও আইএস মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের নেয়া কৌশল, উভয়ের জন্য একটি বিপর্যয়। রামাদি পুনর্দখল করা ইরাকি সরকারের জন্য বড় ধরনের একটি চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জে জয়ী হওয়ার জন্য সুন্নি অধ্যুষিত প্রদেশটিতে শিয়া বেসমরিক যোদ্ধা পাঠানোর ঝুঁকি নিয়েছে সরকার। রামাদির ২০ কিলোমিটার পূর্বে হাব্বানিয়া সামরিক ঘাঁটিতে ইতোমধ্যেই তিন হাজার শিয়া বেসামরিক যোদ্ধা তৈরি হচ্ছে বলে জানা গেছে। রামাদি পুনর্দখলের জন্য এর যে কোনো মুহূর্তে লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্র্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল জানিয়েছে, ইরাকের স্থানীয় স্থল বাহিনীকে কিভাবে সর্বোচ্চ সমর্থন যোগানো যায় তা পর্যালোচনা করে দেখছেন তারা। বিবিসি, রয়টার্স। -

Post A Comment: