আধুনিক পোশাক বলতে আমরা যে পোশাকগুলোকে বুঝি, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম শার্ট। মূলত ছেলেদের পোশাক শার্ট শার্টের গ্রহণযোগ্যতা সারা বছর ধরে একই রকম থাকে। তবে এটাও ঠিক, বিভিন্ন মওসুমে বিভিন্ন রকমের শার্ট বাজারে আসে। ডিজাইন, কাপড়, সেলাই প্রভৃতি দিক থেকে এসব শার্টে থাকে বৈচিত্র্য। এখন গরমের মওসুম। এই মওসুমের শার্টের ডিজাইনে রয়েছে তারই ছোঁয়া।

শার্টের বর্তমান বাজার

প্রচণ্ড গরমে মানুষ চায় হালকা পোশাক পরতে। যে কারণে ছেলেরা টি-শার্টের ওপরই বেশি নির্ভর করে। কিন্তু সব জায়গায় টি-শার্ট পরে যাওয়া যায় না বলে শার্ট পরতেই হয়। এ ক্ষেত্রে তারা প্রাধান্য দেয় এমন শার্টকে, যে শার্ট গরমকে আরো বাড়িয়ে দেবে না। যে কারণে দেখা যায় এই মওসুমে হাফশার্টের চাহিদাই বেশি। আবার কিছু কিছু জায়গায় হাফশার্ট বেমানান। কাউকে কাউকে হাফশার্ট সেভাবে মানায়ও না। তাই তারা বেছে নেন ফুলশার্ট। হাফশার্ট হোক কিংবা ফুলশার্টই হোক, সবার নজর থাকে কাপড়ের ওপর। অর্থাৎ কাপড়টা মোটা, নাকি পাতলা। গরমের কথা বিবেচনা করে সবার প্রথম পছন্দ থাকে পাতলা কাপড়ের শার্ট। বসুন্ধরা শপিংমলসহ শহরের বেশ কয়েকটি অভিজাত শপিংমল ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতারা তুলনামূলক হালকা কাপড়ের শার্টই বেশি পছন্দ করছেন। যেহেতু ঈদ এখনো অনেক দূরে, তাই এখনই হয়তো সেভাবে নতুন নতুন ডিজাইনের শার্ট আসেনি, তবে যেগুলো আছে বা বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে সাদামাটা কাপড় ও বুননের শার্টের কদরই লক্ষ করা গেছে। সাদা রঙের কাপড়ে গরম একটু কম লাগে। তাই সাদা বা সাদার কাছাকাছি রঙের শার্টের প্রতি রয়েছে ক্রেতাদের বিশেষ আকর্ষণ। শীতের দিনে মোটা এবং বড় কলারের শার্ট বেশি চলে। কিন্তু গরমের দিনে অপেক্ষাকৃত চিকন এবং পাতলা কলারের শার্ট বেশি পছন্দ করছেন ক্রেতারা। এককথায় বলতে গেলে, যে ধরনের শার্ট এই গরমে স্বস্তি দেবে, সেই শার্টই এখন বেশি বিক্রি হচ্ছে।

দরদাম
শপিংমলগুলোতে সাধারণত দুই ধরনের শার্ট পাওয়া যায়। ফরমাল ও ক্যাজুয়াল। ফরমাল শার্টের নির্ভরযোগ্য কিছু ব্র্যান্ড হলো- ক্যাটস আই, মনসুন রেইন, মেনজ ক্লাব ইত্যাদি। এ ছাড়াও ট্রেন্ডস, আর্টিস্টি, ওয়েস্টেকস, রেক্স, লার্ক, ইজি, ইয়োলো, প্লাস পয়েন্ট, দর্জি বাড়ি, সিলভার রেইন, টেক্সমার্টসহ বিভিন্ন দেশীয় ব্র্যান্ড বিক্রি করে থাকে ফরমাল ও ক্যাজুয়াল শার্ট। ক্যাটস আইয়ে পাওয়া যাবে হেভি ওয়াশড সুতি শার্ট, যা বেশ আরামদায়ক। এসব শার্টের প্রিন্ট এবং বোতাম অন্য যেকোনো শার্টের চেয়ে আলাদা। এসব শার্টের দাম পড়বে ১২০০ থেকে ১৮০০ টাকা। ওয়েস্টেকসে পাওয়া যাচ্ছে হালকা জমিনে গাঢ় রঙের বিভিন্ন স্ট্রাইপ শার্ট। আর সেই সাথে রয়েছে বিভিন্ন রঙের চেকশার্ট। বিভিন্ন ডিজাইনের এসব শার্টের দাম পড়বে ১০০০ থেকে ২৫০০ টাকা। দেশী-বিদেশী উভয় ধরনের কাপড়ের শার্ট রয়েছে আর্টিস্টি গ্যালারিতে। আর্টিস্টি কালেকশনের শোরুমে গেলেই দেখা যাবে আর্টিস্টি গোল্ড এবং আর্টিস্টি ইতালিয়ান কালেকশনের সমাহার। আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য এবং প্রায় তিন শ’র মতো রঙের বৈচিত্র্য রয়েছে শার্টগুলোতে।

এসব শার্টের দাম পড়বে ২০০০ থেকে ৪২০০ টাকা। শার্টের হরেকরকম ডিজাইন এবং বৈচিত্র্যের জন্য মেনজ ক্লাব অনেকেরই পছন্দের ব্র্যান্ড। এখানে বিভিন্ন ডিজাইনের ক্যাজুয়াল ও শর্টশার্ট পাওয়া যাবে ১২০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যেই। এ ছাড়া ইনফিনিটি, ট্রেন্ডজ, রেক্স, লার্কে পাবেন গরমের দিনের জন্য আরাম ও স্বস্তিদায়ক সুতি, লিনেন ফ্লাক্স বা সিভিসি ধরনের কাপড়ের শার্ট। ফুলহাতা এবং হাফহাতা শার্টের দাম পড়বে সর্বোচ্চ ১৮০০ টাকা। সেমি চায়নিজ ক্যাজুয়াল শার্টের বেশ ভালো কালেকশন রয়েছে এসব শোরুমে। এ ছাড়া একরঙা এবং প্রিন্ট শার্টের কালেকশন তো রয়েছেই। নিত্যনতুন ডিজাইনের একটু ভিন্নমাত্রার শার্ট রয়েছে দেশী ফ্যাশন হাউজগুলোতে। যেমন রঙ, আড়ং, কে ক্র্যাফট, অন্যমেলা ইত্যাদি।

কেনার সময় লক্ষ্য করুন
ব্র্যান্ডের শার্ট কেনার সময় অনেকেই সেভাবে খেয়াল করার প্রয়োজনবোধ করেন না। কারণ ব্র্যান্ডের শার্টের গুণগত মান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকেন। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে, ব্র্যান্ডের শার্টগুলো তৈরি করা হয় গুণগত মান ঠিক রেখেই। তবে এটাও ঠিক, সব শার্ট সবার গায়ে সমানভাবে নাও ফিট হতে পারে। তাই শুধু সাইজ দেখে না কিনে গায়ে লাগিয়ে তারপর কেনা দরকার। এ ছাড়া কলারের মাপটা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। অনেক সময় হাতাটা নির্দিষ্ট মাপের চেয়ে একটু খাটো অথবা লম্বা হয়। তাই কেনার সময় অবশ্যই হাতা মিলিয়ে নিন। কোনো কোনো একরঙা শার্টের বিভিন্ন অংশের কাপড়ের রঙ এক রকম থাকে না, যা পরে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে। তাই ভালোভাবে দেখে নেয়া আবশ্যক। সর্বোপরি সেলাইটা অবশ্যই দেখে নিতে হবে। বোতামের রঙ এবং অবস্থান তো দেখতেই হবে।

Post A Comment: