পাকিস্তান সিরিজের অনেক আগেই বাংলাদেশকে ফেবারিট বলে ঘোষণা দিয়ে দিয়েছিলেন। এবার আর সেটা বলছেন না। সিরিজ জয়ের সম্ভাবনায় এগিয়ে রাখছেন ভারত কেই। তবে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল যত বড় ক্রিকেট পরাশক্তিই হোক, তাদের বিপক্ষেও সিরিজ জয়টাকে অসম্ভব মনে করেন না সাকিব আল হাসান। কাল প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টির এক নম্বর অলরাউন্ডার বললেন, ভারত কে হারাতে পারলে সেটা হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় অর্জন—

. ভারত সিরিজ তো প্রায় চলে এল। আপনাদের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে যাবে কাল (আজ) থেকেই। প্রস্তুতিতে কোন দিকটায় জোর দিতে হবে বলে মনে করেন?

সাকিব আল হাসান: সব দিকেই সমান নজর দিতে হবে। আলাদাভাবে কাজ করতে হবে, এমন কোনো দিক নেই। ভারত ের মতো দলের বিপক্ষে ভালো ফলাফল করতে হলে ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং সবই ভালো হতে হবে।

. বিশ্বকাপে দুই দলের সর্বশেষ ম্যাচে অনেক বড় ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের কোনো প্রভাব কি পড়তে পারে এবারের সিরিজে?

সাকিব: দেখেন, এটা সম্পূর্ণই একটা নতুন সিরিজ। আমার মনে হয় না ওই ম্যাচের কোনো প্রভাব এখানে পড়বে। অন্তত আমার মধ্যে পড়বে না। দলের অন্যদের কথা বলতে পারব না।

. দেশের মাটিতে খেলা। সেই সুবিধা তো পাবে বাংলাদেশ...

সাকিব: অবশ্যই আমরা তা পাব। দেশের মাটিতে বাংলাদেশ বরাবরই ভালো দল। আমার বিশ্বাস, দলের সবাই ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে খেলবে। তা ছাড়া পাকিস্তান সিরিজে আমরা ভালো খেলেছি। মাঝে খুব বেশি বিরতি না থাকায় সেই স্মৃতিটা এখনো তাজা। বেশির ভাগ খেলোয়াড় এই সময়টায় খেলার মধ্যে থাকায় প্রস্তুতিতেও কারও ঘাটতি থাকার কথা না।

. পেস বোলিং নিয়ে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছিল পাকিস্তান সিরিজে। এবার কি সেটা কাটিয়ে ওঠা যাবে?

সাকিব: নির্বাচকেরা নিশ্চয়ই বিষয়টা মাথায় রাখছেন। তবে আমার মনে হয় না এই সিরিজে কোনো সমস্যা হবে। বেশির ভাগ পেসারই এখন ফিট। আর যদি কেউ ফিট না-ও থাকে, যারা আছে তাদের নিয়েই খেলতে হবে। এ ছাড়া তো কিছু করার নেই।

. সে ক্ষেত্রে স্পিনারদের কি একটু বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে বলে মনে করেন?

সাকিব: আসলে দায়িত্ব সবাইকেই নিতে হবে। টেস্ট ম্যাচ জিততে হলে আপনাকে প্রতিপক্ষের ২০টি উইকেট নিতে হবে। সেটা একা পেসার বা স্পিনারদের পক্ষে সম্ভব না। সবাইকে সবার জায়গা থেকে ভালো করতে হবে।

. ভারত ের ব্যাটিং লাইনআপ যেকোনো দলের জন্যই ভীতিকর। আপনারাও নিশ্চয়ই তাদের ব্যাটিংয়ের দিকেই চোখ রাখবেন বেশি...

সাকিব: এটা ঠিক যে তাদের ব্যাটিং ভালো। তাই বলে শুধু ব্যাটিংয়ের দিকে চোখ রাখলেই হবে না। বিশ্বকাপে ভারত ের বোলাররা খুবই ভালো বল করেছে। দলটার ফিল্ডিংও বেশ ভালো। টেস্টে তারা এশিয়াতে সেরা, ওয়ানডেতেও বেশ শক্তিশালী দল। কাজেই ভালো ফল পেতে হলে ওদের সব দিক দিয়েই হারাতে হবে।

. বিশেষ কোনো ব্যাটসম্যান বা বোলারের কথা কি বলবেন, যাঁকে নিয়ে আপনাদের আলাদা করে ভাবতে হতে পারে?

সাকিব: না। ওদের সবাই ম্যাচ জেতাতে পারে। কোনো একজনকে নিয়ে আলাদা করে ভাবাটা হয়তো ভুলই হবে। তবে ম্যাচ জেতানোর মতো খেলোয়াড় এখন আমাদেরও অনেক আছে। ওরাও নিশ্চয়ই আমাদের সেভাবেই দেখছে।

. ভারত ের বিপক্ষে সিরিজ জেতা সম্ভব? পাকিস্তানের বিপক্ষে তো সিরিজের অনেক আগেই বাংলাদেশকে ফেবারিট বলে দিয়েছিলেন...

সাকিব: অসম্ভব কিছুই না। ওয়ানডেতে ৩–০–ও সম্ভব, তবে কঠিন। ভারত ের বিপক্ষে সিরিজ জিতলে সেটা হবে এখন পর্যন্ত আমাদের ক্রিকেটের সেরা অর্জন। আমাদের জন্য এটা তাই অনেক বড় সিরিজ।

. ভারত ের মতো দলের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের সামর্থ্য কি আছে বাংলাদেশ দলের? নাকি পুরোটাই ভাগ্য আর নির্দিষ্ট দিনের ওপর নির্ভরশীল?

সাকিব: সামর্থ্য নেই বলাটা ভুল হবে। তবে হ্যাঁ, সম্ভাবনাটা ওদেরই বেশি। আমরা তবু চেষ্টা করব।

. পাকিস্তান সিরিজের আগে বাংলাদেশকে ফেবারিট বলেছিলেন। এবার তাহলে সে রকম কিছু বলছেন না...

সাকিব: পাকিস্তানের বিপক্ষে আসলেই আমাদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি ছিল। সে জন্যই ওই কথা বলেছিলাম। কিন্তু এবার ভারত ের সুযোগ বেশি।

. শোনা যাচ্ছিল ভারত মূল দল পাঠাবে না। কিন্তু এখন তো ধোনি-কোহলি সবাই আসছেন। এটা ভালো হলো না খারাপ হলো?

সাকিব: ভারত মূল দল পাঠাবে না, সেটা আসলে মিডিয়াতেই দেখেছি। তবে শুধু গতবার ছাড়া ওরা কবে আমাদের দেশে দুর্বল দল পাঠিয়েছে? এ রকম একবারই হয়েছে। সে সময় তাদের পরিস্থিতিটাই ও রকম ছিল। আর এ রকম অনেক দলই করে। তাই বলে বারবারই ওরা দ্বিতীয় সারির দল পাঠাবে, এ রকম ভাবার কোনো কারণ নেই। এটা নিয়ে এত মাতামাতিরও কিছু দেখছি না। ভারত যে দলই পাঠাক, জিততে হলে আমাদের ভালো খেলতে হবে।

. এই সিরিজে আপনার কোনো ব্যক্তিগত লক্ষ্য?

সাকিব: সে রকম কিছু না। সুযোগ পেলে ভালো খেলাই একমাত্র লক্ষ্য।

. আইপিএলে খেলার সুবাদে তো আপনি বাংলাদেশের পর ভারত ীয় ক্রিকেটারদেরই সবচেয়ে কাছ থেকে দেখেন। এই দলটার বিপক্ষে খেলে কি বাড়তি কোনো রোমাঞ্চ অনুভব করেন?

সাকিব: সে রকম কিছু না আসলে। আমার কাছে ক্রিকেট খেলাটাই মজার। যেখানে যাদের বিপক্ষেই খেলি না কেন, খেলতে পারলেই আমার ভালো লাগে। প্রতিপক্ষ দলে কে আছে না আছে, অত কিছু ভাবি না।

. ভারত ের যে দলটা আসবে, তাতে আপনার সঙ্গে সবচেয়ে ভালো জানাশোনা কার?

সাকিব: সবার সঙ্গেই পরিচয় আছে। দেখা হলে ওরা সবাই হাই-হ্যালো বলে, আমিও বলি।

Post A Comment: