বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ার অভিযোগে চিত্রনায়িকা নাজনীন আক্তার হ্যাপীর করা মামলা থেকে ক্রিকেটার রুবেল হোসেনকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। গতকাল ঢাকার ৫ নম্বর নারী-শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তানজিনা ইসমাইল পুলিশের দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে এ আদেশ দেন। এরআগে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে হ্যাপীর না-রাজি আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়। খারিজ আদেশের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় হ্যাপীর আইনজীবী তুহিন হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, বিচারক আসামি রুবেল হোসেনকে ক্রিকেটার হিসাবে গুরুত্ব দিয়েছেন, কিন্তু মামলার অভিযোগ এবং মিথ্যা তদন্তকে গুরুত্ব দেননি। এছাড়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাদী ও সাক্ষীদের সঙ্গে কথা না বলে এই আধুনিক যুগে আদি ধারনার উপর ভিত্তি করে সম্পূর্ণ মনগড়াভাবে দায়সারা প্রতিবেদন দিয়ে আসামিকে অব্যাহতির আবেদন করলেও আদালত তা গ্রহণ করেছেন। বিচারক মামলার গুরুত্ব বুঝে বাদীর বক্তব্য শুনে অভিযোগটি আমলে নিতে পারতেন অথবা মামলাটি অধিকতর তদন্তে পাঠাতে পারতেন
। কিন্তু বিচারক ক্রিকেটার দেখেছেন, আইন দেখেননি। এ কারণে আমরা ন্যায় বিচার পাই নাই। তাই এ আদেশে বিরুদ্ধে বাদী উচ্চ আদালতে যাব। তবে বিচার ব্যবস্থায় হতাশা প্রকাশ করেছেন হ্যাপী। আদালতের আদেশে হ্যাপী জানান, আমার প্রতি অবিচার করা হয়েছে। তবে আমি সুষ্ঠু বিচারের আশায় অচিরেই হাইকোর্টে রিভিশন করব। এরআগে ৬ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উইমেন সাপোর্ট এন্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের পুলিশ পরিদর্শক হালিমা খাতুন ফৌজদারি বিধান কোষের ১৭৩ ধারামতে চূড়ান্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দেন। এরপর গত ১৭ মে মামলটি নারী-শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হ্যাপী চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে না-রাজি আবেদন দাখিল করেন। পরে গতকাল শুনানিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও মনিকা লিউনেস্কির সম্পর্কের আলোচিত ঘটনাও টেনে আনেন হ্যাপীর আরেক আইনজীবী আবদুল্লাহ মনসুর রিপন। তার আগে মামলাটি গত ১৩ এপ্রিল ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেন হাকিম আদালত। এর মধ্যে মামলাটি মামলার বাদী নাজনীন আক্তার হ্যাপীকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হলে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে আদালতের কাছে ওই হুমকির কথোপকথনের ওডিও সিডিও জমা দেন। গতকাল হ্যাপী আদালতকে বলেন, “মামলার বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা আমার কাছে কিছুই জিজ্ঞাসাবাদ করেননি এবং শোনেননি। এছাড়া আমার পক্ষের সাক্ষীদের সঙ্গেও কথা বলেননি। আলামত পরীক্ষা না করেই প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে অভিযোগ করে এই অভিনেত্রী বলেন, যখন আমার মেডিকেল পরীক্ষা করার দরকার ছিল তখন তা করেনি। শারীরিক সম্পর্কের চিহ্ন নষ্ট হয়ে যাওয়ার অনেক পরে পরীক্ষা করেছে। অথচ এর আগে আমি থানায় গিয়েছিলাম মামলা করতে, সেখান থেকে রুবেল হোসেনসহ অন্য কয়েকজন মিলে আমাকে বিয়ের কথা বলে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। এর আগে এ মামলায় রুবেল হোসেন তিনদিন কারাগারেও ছিলেন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশ নেন। তবে মামলার অভিযোগের অব্যাহতির বিষয়ে রুবেলের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মাহবুব ও মো মানিরুজ্জামান আসাদ বলেন, আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। মামলার অভিযোগ ছিল মিথ্যা ও বানোয়াট। তাই আদালত আমাদের অব্যাহতি দিয়েছেন।এরআগে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ার অভিযোগে ১৩ ডিসেম্বর রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন চিত্রনায়িকা নাজনীন আক্তার হ্যাপী। -

Post A Comment: