রাশিয়ার  ক্ষোভ প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফোরাম অ্যাগ্রিমেন্টের (টিকফা) আদলে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি বিনিয়োগ চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল রাশিয়া। চুক্তির একটি খসড়া তারা নিয়ম অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও পাঠিয়েছিল। তবে গত দুই বছরেও এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তাবে এ ধরনের অবহেলার বিষয়টি খুশি করতে পারেনি দেশটিকে। এ নিয়ে সম্প্রতি পররাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন ঢাকায় অবস্থিত রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার এ. নিকোলাভ।
জানা গেছে, সপ্তাহখানেক আগে ওই চিঠির একটি অনুলিপি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের কাছে পাঠান কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। পরে বাণিজ্যমন্ত্রী তার সচিবকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, রাশিয়ার প্রস্তাবটি পররাষ্ট মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। আমরা সেটি চেয়ে তাদের কাছে চিঠি পাঠাচ্ছি।জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ আলু আমদানি করে থাকে রাশিয়া। তবে উৎপাদিত এই সবজিতে ব্যাকটেরিয়া রয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে
বাংলাদেশ থেকে পণ্যটি আমদানি নিষিদ্ধ করেছে রাশিয়া। ব্যাকটেরিয়ার ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নিলে রাশিয়া আবারও আলু নেবে বলে গত এপ্রিলে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদকে জানিয়েছিলেন দেশটির রাষ্ট্রদূত। এ ছাড়া তৈরি পোশাক নেওয়ার ব্যাপারেও আগ্রহ প্রকাশ করেছিল তারা। আলুর ওপর আরোপিত ওই নিষেধাজ্ঞা এখনো উঠেনি। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক ইস্যুতে কোনো ধরনের কাঠামো না থাকায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে উদ্যোগ নেওয়া যাচ্ছে না বলেও জানা গেছে। সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে তখনকার বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল রাশিয়া সফরে যায় নতুন বাজার অনুসন্ধানে। ওই সফরে দেশটির ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি মিনিস্টার মি. আলেক্সেই ই লিখাচেভ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি এবং ওই চুক্তির আওতায় একটি যৌথ বাণিজ্য কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেন। পরে দেশে ফিরে তখনকার বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছিলেন, বিনিয়োগ চুক্তির পাশাপাশি রাশিয়া জয়েন্ট ট্রেড কমিশন (জেটিসি) গঠনেরও প্রস্তাব দিয়েছে। বাণিজ্য সম্প্রসারণে এ ধরনের চুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেই আমরা মনে করি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের এ ধরনের একটি চুক্তি থাকলেও বিশ্বের আরেক শক্তিধর দেশ রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি কোনো বাণিজ্যিক সম্পর্ক নেই। প্রচলিত এলসি পদ্ধতিতে দেশটির সঙ্গে সরাসরি আমদানি-রপ্তানিও করা যায় না। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে কোনো পণ্য রপ্তানি হলে সেখানে ডাবল টেক্সেশনের মুখে পড়তে হয়। এ পরিস্থিতিতে রাশিয়ার বিনিয়োগ চুক্তির প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত ছিল বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। এ ধরনের চুক্তি সম্পন্ন হলে দেশটিতে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি ত্বরান্বিত হবে। এ ছাড়া শ্রম পরিবেশ, মেধাস্বত্ব¡সহ বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে টিকফায় যে ধরনের শর্ত রয়েছে রাশিয়ার সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তিতে তেমন কোনো শর্তের মুখে পড়তে হবে না। উপরন্তু দেশে রাশিয়ার সরাসরি বিনিয়োগ বাড়বে বলেই মনে করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল ও চামড়া পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে রাশিয়ায়। কিন্তু সরাসরি বাণিজ্যিক সম্পর্ক না থাকায় বাংলাদেশের পণ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মাধ্যমে রাশিয়ায় যায়। ইউরোপের কোম্পানিগুলো ক্রেডিট সেলের মাধ্যমে রাশিয়ায় বাংলাদেশের পণ্য সরবরাহ করে। এর ফলে রাশিয়ায় বাংলাদেশি পণ্যের দামও বেড়ে যায় কয়েকগুণ।

Post A Comment: