কান চলচ্চিত্র উৎসবের প্রথম দিনে নিজের ছবি লা তেত ওত নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে ফরাসি খ্যাতনামা অভিনেত্রী ক্যাথরিন দানিয়ুভ l ছবি: এএফপিচিরচেনা সেই ঝকমকে সোনালি চুল। কানে মুক্তার দুল। ঠোঁটে লাল লিপস্টিক। বাদামি চোখের গভীরতা এখনো যে কারও হৃদয় জয় করে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বয়স ছায়া ফেলেছে মুখের বলিরেখায়, কিন্তু দেখে মনে হচ্ছে বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি। মুখে খানিকটা গাম্ভীর্য টেনে রেখেছেন। যতটা গাম্ভীর্য ভালো লাগে। বিশ্বের সর্বকালের সেরা অভিনেত্রী অথবা সর্বকালের সেরা আবেদনময়ী নারী। যেকোনো রকম শীর্ষ তালিকাতেই তাঁর নাম উঠে আসে নিশ্চিতভাবে। অভিনয় আর খ্যাতির বিচারে তাঁর সঙ্গে কেবল তুলনা চলতে পারে সোফিয়া লোরেন অথবা ব্রিজিত বার্দোর। ফ্রাসোয়া তুফো আর রোমান পোলানস্কির মতো সিনেমাগুরুদের অন্যতম প্রিয় অভিনেত্রী তিনি। সেই ক্যাথরিন দানিয়ুভ আছেন সামনে। জুতসই একটা প্রশ্ন করব বলে আগেই গুছিয়ে রেখেছিলাম মনে মনে। কিন্তু মাইক্রোফোন হাতে নিতেই কেন যেন গুলিয়ে গেল সব। জিজ্ঞেস করব ভেবেছিলাম, আপনার অভিনীত রোমান পোলানস্কির সেই সুবিখ্যাত ছবির আরেকটা ‘রিমেক’ হলে আবার অভিনয় করবেন? কিন্তু সেটা আর করা হলো না। হয়তো ক্যাথরিন দানিয়ুভ আনমনা ছিলেন। তৃতীয় দফায় পাশের জনের সহায়তায় আমার প্রশ্ন বুঝলেন ঠিকঠাক। প্রশ্নটা তাঁর এবারের ছবি-সম্পর্কিত। ‘আপনি কি মনে করেন সন্তানদের ঠিকঠাক বড় করাটা এখন যেকোনো সময়ের তুলনায় কঠিন? এই সেলফি জেনারেশন সম্পর্কেই বা আপনার কী ধারণা?’
আগেই কানে দেওয়া অনুবাদক যন্ত্রের সহায়তায় ফরাসি মহাতারকার জবাব মিলল, ‘হ্যাঁ, আমি মনে করি অবশ্যই কঠিন। কাজটা খুব সহজ নয়..’। দ্বিতীয় প্রশ্নটা করব ভাবছিলাম, সেটা আর করা হয়নি তাড়াহুড়ায়।
ফরাসি মহাতারকা ক্যাথরিন দানিয়ুভ এবার উৎসবে এসেছেন তাঁর অভিনীত পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি লা তেত ওত নিয়ে। সত্তর পেরিয়েও এখনো সমান উজ্জ্বল ফরাসি সিনেমার এই অন্যতম আইকন। আর তারই জোরে তিনি নিজের করে নিয়েছেন গতকাল কান চলচ্চিত্র উৎসবের শুরুর দিন। ক্যাথরিন দানিয়ুভ অভিনীত, ইমানুয়েল বারকো পরিচালিত লা তেত ওত ছবি দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে ৬৮তম কান চলচ্চিত্র উৎসব।
সহিংস আর আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা এক কিশোরকে ঘিরে লা তেত ওত ছবির গল্প। অন্তর দিয়ে যার সমস্যা বোঝার চেষ্টা করছেন মায়াবতী বর্ষীয়ান বিচারক। ছবিতে ক্যাথরিন দানিয়ুভ অভিনয় করেছেন এই বিচারকের ভূমিকায়।
গতকাল দুপুরে উৎসবের পয়লা সংবাদ সম্মেলনে যখন ক্যাথরিন হাজির হলেন, স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে ঘিরে সারা বিশ্ব থেকে আসা সাংবাদিকদের বাড়তি আগ্রহ। সেসব অবশ্য খুব একটা গা করলেন না তিনি। চেহারার গাম্ভীর্য দেখে কে বলবে ভয়ংকর মন্তব্যটা তিনি করেছেন ঠিক আগের দিনই। গোটা ফ্রান্সে নাকি আর কোনো তারকা অবশিষ্ট নেই। গতকাল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি।
‘আমার কাছে তারকা মানে এমন কেউ, যাকে দেখার জন্য, যার সম্পর্কে জানার জন্য হন্যে হয়ে থাকে মানুষ। কিন্তু এখন সব তারকাই মনে হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটনির্ভর। তাদের আর গোপন বলে কিছু থাকে না।’
সংবাদ সম্মেলন শেষে ক্যাথরিন দানিয়ুভ চলে যাচ্ছেন। তাঁকে বাড়িয়ে দিলাম সেই কাঙ্ক্ষিত প্রশ্ন লেখা কাগজ—‘রিপালসন-এর রিমেক হলে কেমন হয়?’ তিনি সেটা দেখলেন। স্মিত মুখে সই করে দিলেন নিজের নাম। তারপর ফিরে গেলেন ছবির অন্য কলাকুশলীদের সঙ্গে আলাপে।
বিচারকের আসনে বন্ডকন্যা: খ্যাতিমান মার্কিন নির্মাতা ইথান ও জোয়েল কোয়েন এবার আছেন বিচারকদের তালিকায়, সেটা জানা হয়ে গিয়েছিল শুরুতেই। ফারগো, নো কান্ট্রি ফর ওল্ডম্যান-এর মতো সাড়া জাগানো ছবি আছে তাঁদের ঝুলিতে। কাল সংবাদ সম্মেলনে এসে এই খ্যাতিমান দুই ভাই জানিয়েছেন, বিচারকাজটি উপভোগ করছেন তাঁরা। দুজনে খুব আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন কাজটি শেষ করার জন্য। কোয়েন ভাইদের সহযোগী হিসেবে যোগ দিয়েছেন একসময়ের বন্ডকন্যা (দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ নট এনাফ) সোফি মারসু। বিচারকদের সেশনে সোফি ছিলেন মধ্যমণি। এবার বিচারকদের তালিকায় আরও আছেন অভিনেত্রী সিয়েনা মিলার, রোজি ডে পালমা, নির্মাতা গিলেরমো দেল তোরো ও শাভিয়ের দোলান।
গতকাল এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তোড়জোড় চলছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের।
আজ অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে সালমা হায়েক অভিনীত, মাতিও গ্যারন পরিচালিত টেল অব টেলস (এল রেকন্তো, দেল রেকন্তো) ছবির উদ্বোধনী প্রদর্শনী।

Post A Comment: