একাত্তরের বীরাঙ্গনা (বীর মুক্তিযোদ্ধা) ও খ্যাতনামা লেখিকা রমা চৌধুরী আর নেই। সোমবার ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে রমা চৌধুরীর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী এবং রমা চৌধুরীর বইয়ের প্রকাশক ও দীর্ঘদিনের সহচর আলাউদ্দীন খোকন এ তথ্য জানিয়েছেন। আলাউদ্দীন খোকন বলেন, ‘রোববার সন্ধ্যার দিকে দিদির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। রাতেই তাকে লাইফ সাপোর্ট নেয়া হয়। কিন্তু, আমাদের সবার চেষ্টা ব্যর্থ করে ভোরে তিনি চলে যান না ফেরার দেশে।’


চমেকের চিকিৎসকরা জানান, কোমরে আঘাত, গলব্লাডার স্টোন, ডায়াবেটিস, অ্যাজমাসহ নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন রম চৌধুরী।

শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি তাঁকে চমেকে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে তিনি হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন।

রমা চৌধুরী ১৯৪১ সালের ১৪ অক্টোবর চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন।

রমা চৌধুরী ১৯৬২ সালে কক্সবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালনের মধ্যদিয়ে পূর্ণাঙ্গ কর্মজীবন শুরু করেন। পরে দীর্ঘ ১৬ বছর তিনি বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালন করেন।


মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১৩ মে তিন শিশু সন্তান নিয়ে বোয়ালখালীর পোপাদিয়ার গ্রামের বাড়িতেই ছিলেন রমা চৌধুরী, এ সময় তাঁর স্বামী ছিলেন ভারতে।

এদিন এলাকার রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানি বাহিনী রমা চৌধুরীর বাড়িতে হানা দেয়, এ সময় দুগ্ধপোষ্য সন্তান ছিল তাঁর কোলে। এরপরও তাঁকে নির্যাতন করা হয়। পাকিস্তানি সেনারা গানপাউডার দিয়ে আগুন জ্বেলে পুড়িয়ে দেয় তাঁর ঘরবাড়ি। পুড়িয়ে দেয় তাঁর সব সম্পদ। নিজের নিদারুণ এই কষ্টের কথা তিনি লিখেছেন ‘একাত্তরের জননী’ গ্রন্থে।

দেশ স্বাধীনের পর ২০ ডিসেম্বর রমা চৌধুরীর বড় ছেলে সাগর (৫) নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এর এক মাস ২৮ দিন পর মারা যায় আরেক ছেলে টগর (৩)। এরপর রমা চৌধুরী জুতা পরা বাদ দেন। পরে অনিয়মিতভাবে জুতা পরতেন তিনি। ১৯৯৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর আরেক ছেলে জহর মারা গেলে পুত্রশোকে তিনি আর জুতা পায়ে দেননি।


জীবনযুদ্ধে হার না মানা রমা চৌধুরী দেশ স্বাধীনের পর নতুনভাবে পথচলা শুরু করেন। ’৭১ এর জননী’, ‘এক হাজার এক দিন যাপনের পদ্য’, ‘ভাব বৈচিত্র্যে রবীন্দ্রনাথ’সহ ১৯টি বই লিখেছেন। খালি পায়ে হেঁটে চট্টগ্রাম নগরীতে বই বিক্রি করতেন এই বীরাঙ্গনা।

চট্টগ্রামের প্রথম নারী এমএ রমা চৌধুরী একাকী নগরীর চেরাগী পাহাড় মোড়ে লুসাই ভবনের একটি কক্ষে থাকেন। তার সঙ্গী একটি পোষা বেড়াল।


২০১৩ সালের ২৭ জুলাই রমা চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সে সময় নিজের লেখা বই বিক্রি করে একটি অনাথ আশ্রম গড়ার স্বপ্নের কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
 

রাজধানীর শ্যামপুরে ব্যবসায়ী ইউনূস হাওলাদার খুনের পরিকল্পনাকারী হিসেবে গ্রেফতার শ্যামপুর থানার এএসআই নূর আলমকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।


রোববার নূর আলমকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই গোলাম মোস্তফা।

তবে এদিন মামলার মূল নথি না থাকায় ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমান তা প্রাপ্তি সাপেক্ষে রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন।

ঢাকা জেলা কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. আসাদুজ্জামান এসব তথ্য জানান।

আগামীকাল সোমবার তার রিমান্ড শুনানি হতে পারে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে শনিবার রাতে নূর আলমকে গ্রেফতার করে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ।

গ্রেফতারের আগে পুলিশ কর্মকর্তা নূর আলমকে থানা থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে নেয়া হয়।

জানা গেছে, গত ২৫ জুন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার হাসনাবাদ এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

জানা যায়, তিনি পুরান ঢাকার নবাবপুরে কৃষি যন্ত্রাংশের ব্যবসায়ী ইউনূস হাওলাদার।

লাশের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর সেদিন রাতে নিহত ব্যক্তির ছেলে আতিকুজ্জামান বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।

এ ঘটনায় নিহত ইউনূস হাওলাদারের বাড়ির ভাড়াটে ওহিদ সুমন (২৭) ও যাত্রাবাড়ীর ছাবের ওরফে শামীম (৪৩)কে গ্রেফতার করে পুলিশ।

খুনের দায় স্বীকার করে ঢাকার আদালতে জবানবন্দি দেন সুমন। তিনি জানান, খুনের পরিকল্পনাকারী এএসআই নূর আলম।
 

এবার এক অন্য আয়ুষ্মান খুরানাকে দেখার জন্য তৈরি হয়ে যান। পরবর্তী ছবিতে অন্যরূপে পর্দায় হাজির হচ্ছেন তিনি। ‘অন্ধা ধুন’ ছবির ট্রেলার তার প্রমাণ। ছবিতে এক অন্ধ পিয়ানো বাদকের ভূমিকায় দেখা যাবে আয়ুষ্মানকে। তবে ছবিটি একেবারেই অন্ধ শিল্পীর স্ট্রাগলের গল্প নয়। সাধারণত এই ধরনের ছবিতে শিল্পী, তার দারিদ্র এসব নিয়েই জমে ওঠে গল্প। কিন্তু এখানে সেই সবের ছায়া মাত্র নেই। ছবিটি সাসপেন্স থ্রিলার (গোয়েন্দা কাহিনি) । তবে তার মানে এই নয় ছবিতে প্রেম ভালবাসার কমতি আছে। সেটাও রয়েছে পুরোদমে।


সংবাদ প্রতিদিনের খবরে বলা হয়, ছবির ট্রেলার শুরু হয়েছে অন্ধ সেই পিয়ানো বাদককে দিয়ে। সংগীত সে ভালবাসে। তার আরও এক ভালবাসা রয়েছে। তার প্রেমিকা। সব মিলিয়ে ভালই কাটছিল জীবন। এর মধ্যে এসে পড়ে এক তৃতীয় ব্যক্তি। তিনিও নারী। অন্ধ পিয়ানো বাদকের জীবন বদলে দেয় এই নারী। প্রত্যেক শিল্পীর জীবনে কোনও না কোনও গোপনীয়তা থাকে। এখানও রয়েছে। কী সেই সিক্রেট? এদিকে এরই মধ্যে হয়ে যায় একটি খুন। এই খুনই গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তদন্তের সময় দেখা যায় অটোর পিছনে ঐশ্বরিয়া রাইয়ের ছবির কথা বেমালুম বলে দিচ্ছে অন্ধ ব্যক্তি। তাহলে কি সে দেখতে পায়?

এই সাসপেন্স হয়তো ভাঙবে ছবি মুক্তির পরই। কারণ ট্রেলারে টানটান উত্তেজনা বজায় রেখেছেন পরিচালক শ্রীরাম রাঘবন। এর আগে তিনি ‘বদলাপুর’, ‘জনি গদ্দার’ ও ‘এক হাসিনা থি’-এর মতো ছবি পরিচালনা করে এসেছেন। সাসপেন্স তার স্বভাবজাত। ছবির প্রযোজকরাও কিছু কম যান না। ‘কাহানি’, ‘দৃশ্যম’ ও ‘স্পেশাল ২৬’-এর মতো ছবি তারই প্রমাণ।

ছবিতে অন্ধ পিয়ানো বাদকের চরিত্রে অভিনয় করছেন আয়ুষ্মান খুরানা। তার প্রেমিকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাধিকা আপ্তে। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন টাবু। ৫ অক্টোবর মুক্তি পাবে ‘অন্ধা ধুন’।