The-same-tune-of-Dhaka-Delhi-with-Rohingya-Dhol 

ভারত আগেই জানিয়েছে। এবার জানালো বাংলাদেশ। নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা মুসলিম রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢলকে নিরাপত্তার পক্ষে ঝুঁকি বলে মানছে ঢাকা। ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা খবর দিয়েছে, গতকাল সোমবার কলকাতায় এক আলোচনা সভায় অংশ নেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।


যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ উপদূতাবাসের উদ্যোগে এই আলোচনা হয়।

সেখানে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের জঙ্গি-যোগের বিষয়টি নিয়ে আমরা ওয়াকিবহাল। উদ্বিগ্নও বটে। সেদিক দিয়ে তারা নিরাপত্তার পক্ষে অবশ্যই ঝুঁকির।’

শাহরিয়ার আলম জানান, মানবিক কারণে ৮ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর আশ্রয়ের ব্যবস্থা তারা করছেন। কিন্তু, বাংলাদেশ চায় মিয়ানমার সরকার সব রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত নিক। কফি আন্নান কমিটির সুপারিশ মেনে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানেও সচেষ্ট হোক।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথায়— ১৬ কোটি বাঙালি যদি খেয়ে-পরে বাঁচতে পারে, তবে ৮ লাখ শরণার্থীকেও তারা খাওয়াতে পারেন। মানবিক কারণেই আমরা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছি।’

শাহরিয়ার আলম জানান, কিন্তু, এই বিপুল সংখ্যক শরণার্থী চিরকাল বাংলাদেশে থেকে যেতে পারেন না। এর ফলে অর্থনীতিতে যে চাপ পড়বে, আজকের বাংলাদেশ তা সামলে নিতে সক্ষম। কিন্তু, এই জনগোষ্ঠীকে নিয়ে সামাজিক সমস্যা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। তাদের জঙ্গি-যোগের বিষয়টি তো রয়েছেই।

তিনি জানান, এই সমস্যার দিনে ভারত আদর্শ বন্ধুর মতো বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যেই তারা এক দফা ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে। আরও ত্রাণ সামগ্রী পাঠাচ্ছে।

সেই সঙ্গে শরণার্থীদের ফেরত নেয়ার বিষয়ে দিল্লি ইতোমধ্যেই মিয়ানমার সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছে বলে জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, ঢাকা ও দিল্লি এ বিষয়ে একযোগে মিয়ানমার প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়াবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শরণার্থী সমস্যা স্থায়ীভাবে মিটতে পারে একমাত্র মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে। এই সমস্যা মেটাতে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আন্নানের নেতৃত্বে একটি কমিশন গড়েছিল মিয়ানমার। সেই কমিশনের রিপোর্ট জমা পড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা স্থায়ীভাবে মেটানোর যথেষ্ট উপকরণ এই রিপোর্টে রয়েছে। ঢাকা চায়, এই রিপোর্ট মেনে মিয়ানমার সরকার সে কাজে সক্রিয় হোক।’

আলোচনা সভায় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশের এগোনোর কথা তুলে ধরেন শাহরিয়ার আলম। এমনকি রোহিঙ্গা সমস্যাও আজ সামলে নেয়ার আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে বাংলাদেশের অর্থনীতি।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমামও এই আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
 

এমবিবিএস পরীক্ষার ওপরেই যেন জীবন নির্ভর করছিল। কিন্তু তাতে অকৃতকার্য হওয়ায় শেষমেশ সেই জীবনই খোয়ালেন ভারতের তেলঙ্গানার এক তরুণী গৃহবধূ। মেডিকেল পরীক্ষায় টানা তিন বার ফেল করার ‘অপরাধে’ ওই গৃহবধূকে খুন করার অভিযোগ উঠল তার স্বামীর বিরুদ্ধে।


হায়দ্রবাদের অদূরে নাগোল এলাকার রক টাউন কলোনিতে এই ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় গৃহবধূর স্বামীসহ তার শ্বশুর-শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সাইবারাবাদ থানার পুলিশ জানিয়েছে, তেলঙ্গানার খাম্মাম জেলার কুসুমাঞ্চি গ্রামের গৃহবধূ ২৪ বছরের হারিকা কুমারকে তার স্বামী রবিবার রাতে শ্বাসরোধ করে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ।

লাল বাহাদুর নগরের সহকারি পুলিশ কমিশনার পি বেনুগোপাল রাও জানিয়েছেন, হারিকার স্বামী রুশি কুমার বি টেক পাশ করেছেন। কিন্তু এই মুহূর্তে কোথাও কাজ করতেন না। বছর দুয়েক আগে তাদের বিয়ে হয়। নাগোল এলাকার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন তারা।

হারিকার মায়ের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই মেয়ের ওপর যৌতুক নিয়ে অত্যাচার চালাত রুশির পরিবার। পাশাপাশি তাকে ডাক্তার হওয়ার জন্য চাপ দিতেন রুশি কুমার। কারণ, স্ত্রী’র রোজগারের টাকায় সচ্ছল জীবন কাটাতে চেয়েছিলেন তিনি। এমনকী, এমবিবিএস পরীক্ষায় কৃতকার্য না হলে তাকে ডিভোর্সও দেবেন বলে হুমকি দিতেন তিনি, এমনটাই অভিযোগ পুলিশের। চলতি বছরে ফের এমবিবিএস পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন হরিকা। তবে ডেন্টাল সার্জারিতে স্থানীয় এক বেসরকারি কলেজে সুযোগ পেলেও, তাতে রুশি কুমার রাজি হননি।

ওই গৃহবধূর পড়শিরা জানিয়েছেন, রবিবার রাত ৮টা নাগাদ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রবল ঝগড়াঝাটি শুরু হয়। ওই ফ্ল্যাট থেকে কোনও চিৎকার শুনতে পাননি বলে পুলিশের কাছে জানিয়েছেন তারা।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, আগুন ধরানোর আগে হরিকাকে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলেন তিনি। সে কারণেই কোনও চিৎকারের আওয়াজ আসেনি ওই ফ্ল্যাট থেকে। এরপর জল দিয়ে আগুন নেভানোরও চেষ্টা করেন রুশি কুমার। ওই ফ্ল্যাট থেকে ধোঁয়া বেরতে দেখে পড়শিরা সেখানে ছুটে যান। পুলিশে খবর দেয়া হয়। এরপর রুশি কুমারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
 

চাল আমদানিতে পাটের বস্তাসহ বিভিন্ন শর্ত তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছে সরকার। এতে চালের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী তিন মাস ব্যবসায়ীরা যেকোনো বস্তা বা ব্যাগে চাল আমদানি করতে পারবেন, পাটের বস্তার বাধ্যবাধকতা থাকবে না।


মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে চাল মিল মালিকদের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এবং সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

দীর্ঘ বৈঠকে চাল ব্যবসায়ীরা আমদানিতে তাদের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা জানান। তাদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেন। এক পর্যায়ে বৈঠকে মন্ত্রীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বাকবিতণ্ডাও হয়। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, চালের দাম বেড়েই চলেছে। এতে ভোক্তারা কষ্টে আছে। যেকোনো মূল্যে আমাদের সবাই মিলে চালের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এ ব্যাপারে তিনি ব্যবসায়ীদের কাছে প্রকৃত সমস্যা সম্পর্কে জানতে চান।

পরে ব্যবসায়ী নেতারা তাদের বক্তব্যে জানান, চাল আমদানির ক্ষেত্রে পাটের বস্তার বাধ্যবাধকতাসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এছাড়া চালের ট্রাক আটকে থাকা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা ব্যবসায়ীদের হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেন তারা। পরে চাল আমদানির ক্ষেত্রে সবধরনের শর্তে তিন মাসের জন্য স্থগিতের কথা জানানো হয় সরকারের পক্ষ থেকে।

তোফায়েল আহমেদ আশা করছেন, এই শর্ত স্থগিতের কারণে চালের কেজিতে দুই টাকা করে কমে আসবে।

এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ভারত থেকে সরকারিভাবে কীভাবে চাল আমদানি করা যায় এ ব্যাপারে সরকার ভাবছে। এছাড়া চালের ট্রাক আটকে থাকার জটিলতা নিরসনে ট্রেনে করে চাল আমদানি করা যায় কি না এ ব্যাপারেও সরকার ভাবছে বলে জানান তোফায়েল।

বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এবং খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম চাল মিল মালিকদের অভিযোগ করে বিভিন্ন বক্তব্য দেন। এতে মিল মালিকরা ক্ষুব্ধ হন এবং সভায় কিছুটা হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরে বাণিজ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং চালের দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসতে সরকার ও ব্যবসায়ীরা যৌথভাবে কাজ করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়।