অস্ট্রেলিয়ার একটি আদালত মঙ্গলবার একজন ক্যাথলিক আর্চবিশপকে ১৯৭০-এর দশকে শিশু যৌন নিগ্রহের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার দায়ে দোষী বলে রায় দিয়েছে। এই রায়ের ফলে অ্যাডেলেইডের আর্চবিশপ ফিলিপ উইলসন হলেন এই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত বিশ্বের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ক্যাথলিক ধর্মীয় নেতা।


নিউ সাউথ ওয়েলসের যাজক জেমস ফ্লেচার ১৯৭০-এর দশকে গির্জার ছেলেশিশুদের যৌন নির্যাতন করতেন। ফিলিপ উইলসন তখন সেই যাজকের সহকারী ছিলেন। এ ঘটনা তাকে জানানো হলেও তিনি তা প্রতিকারের কোনো চেষ্টা না করে গির্জার ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য সেটি ধামাচাপা দেন।

নির্যাতনের শিকার কয়েকটি ছেলে যে উইলসনকে এ বিষয়ে অবহিত করেছিল বিচার চলার সময় তিনি তা অস্বীকার করেন।

গতমাসে উইলসন নিউক্যাসল আদালতকে জানান, ফ্লেচারের অপকর্মের বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না। ফ্লেচার ২০০৪ সালে নয় শিশুকে নিগ্রহের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন এবং ২০০৬ সালে কারাগারে বন্দী অবস্থায় মারা যান।

তার নির্যাতনের শিকার পিটার ক্রেইগ আদালতকে বলেন ১৯৭৬ সালে তিনি উইলসনকে তার নির্যাতনের কথা বিশদভাবে বর্ণনা করেন।

ক্রেইগের সাথে এ বিষয়ে কোনও কথোপকথনের কথা তার মনে নেই বলে দাবী করেন উইলসন। ম্যাজিস্ট্রেট রবার্ট স্টোন উইলসনের দাবী প্রত্যাখ্যান করেন ক্রেইগের বক্তব্যকে বিশ্বাসযোগ্য বলে রায় দেন।

ম্যাজিস্ট্রেট স্টোন বলেন, ওই যাজক জানতেন তিনি যা শুনছিলেন তা বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ এবং তিনি চার্চের ভাবমূর্তি রক্ষার করতে চেয়েছিলেন।

শিশু অবস্থায় যৌন নিগ্রহের শিকার হওয়া বিভিন্ন ব্যক্তি আদালতের বাইরে রায়কে স্বাগত জানান।

ক্রেইগ সাংবাদিকদের বলেন, 'চার্চের যে ভণ্ডামি, প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহার দেখিয়েছে আদালতের সিদ্ধান্তের ফলে তা প্রকাশ হয়ে পড়বে।'
‘বাংলাদেশে মাদকসেবী ফিলিপাইনের চেয়ে বেশি’ 

দেশে মাদকের কারবার এখন ও ব্যবহার এখন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ধারণা করা হয়ে থাকে, দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রায় ৭০ লক্ষ, যার অধিকাংশই ইয়াবাসেবী। এটা ফিলিপাইনের চেয়েও অনেক বেশি। ২০১৬ সালেও দেশটিতে মাদকাসক্তের সংখ্যা ছিল ১৮ লাখ।


ফিলিপাইনে রদ্রিগো দুর্তেতের সরকার গত বছর মাদকের বিরুদ্ধে যে সশস্ত্র অভিযান শুরু করে তাতে এ পর্যন্ত ৩ হাজার আটশরও বেশি মাদকাসেবী, বিক্রেতা বা পাচারকারী নিহত হয়েছে। এসব ঘটনাকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো `বিচার-বহির্ভূত হত্যা` বলে আখ্যায়িত করেছে।

বাংলাদেশে এখন মাদকের যে পরিস্থিতি তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং ভয়াবহ বলে মন্তব্য করেছেন নর্থসা্‌উথ বিশ্বিবদ্যালয়ের অধ্যাপক এমদাদুল হক, যিনি উপমহাদেশে মাদকাসক্তির ইতিহাস নিয়ে একাধিক বই লিখেছেন। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশেও মে মাসের শুরু থেকেই এক মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করেছে পুলিশ ও র‌্যাব। মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত ১৮ দিনে কথিত বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ৩৪ মাদক ব্যবসায়ী ও পাচারকারী নিহত হয়েছেন। এরা বিভিন্ন ধরনের মাদক বিশেষ করে ইয়াবা বিক্রি ও পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে বলা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলছেন, মাদকব্যবসার সঙ্গে সন্ত্রাসী-অস্ত্রবাজরা জড়িত হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে।

অধ্যাপক এমদাদুল হক বলছেন, বাংলাদেশে মাদকাসক্তদের একটা বড় অংশই হচ্ছে ইয়াবাসেবী। তাছাড়া আছে ফেনসিডিল, হেরোইন এবং অন্যান্য মাদক।

‘এতদিন এ বিষয়টা খোলামেলাভাবে আলোচিত হয়নি। কিন্তু পরিস্থিতি সত্যি ভয়াবহ। বিভিন্ন নিরাময় কেন্দ্রে গিয়ে আমি মাদকাসক্তদের সঙ্গে কথা বলে যে তথ্য পেয়েছি তা সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়ে বেশি। সব মিলিয়ে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৭ থেকে ১০ মিলিয়নের মধ্যে হবে।’

এমদাদুল হক বলেন, বাংলাদেশে এ সমস্যার মোকাবেলা করতে গেলে এর চাহিদা, সরবরাহ, চিকিৎসা- এরকম অনেকগুলো দিক দেখতে হবে। একক কোনও পন্থা নিয়ে এরকম একটা বিরাট সমস্যার মোকাবিলা করা প্রায় অসম্ভব। এর জন্য একটা সামগ্রিক কৌশলগত পরিকল্পনা এবং কার্যকর পদক্ষেপ লাগবে।

‘মাদক পাচারের দুটো দিক আছে। একটি হলো পেডলার বা খুচরো বিক্রেতা। আরেকটা হচ্ছে যারা এই ব্যবসার মূল নিয়ন্তা- যারা গডফাদার। বাংলাদেশে এ সরকারি অভিযানে যারা টার্গেট হচ্ছে তারা প্রধানত পেডলার লেভেলের। এখানে গডফাদারদের যে বিষয়টা তারা অনেক সময়ই রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকে। তাদের হাতে কোনও মাদক থাকে না। তাই এটা একটা আইনি সমস্যা যে, কর্তৃপক্ষ তাদের পেছনে লাগলেও তাদের হাতে কিছু পায় না।’

‘যারা মাদকের গডফাদার আছে যাদের কথা সরকার নিশ্চয়ই জানে। তাদেরকে হয় শাস্তি দিতে হবে অথবা কঠোরভাবে সতর্ক করতে হবে, যাতে তারা এ থেকে বিরত হয়। এরকম একটা প্রভাব বিস্তারের পদক্ষেপ নেওয়া যায় কি-না তা সরকার ভেবে দেখতে পারে।’
  rojay-toker-jotne-panir-varsamo-bojay-rakhun 

রমজানে সারাদিন রোজা রেখে ত্বক কিছুটা প্রাণহীন ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। পানির অভাবে ত্বকের আর্দ্রতা কমে যায়। এ বছর রমজান মাসে কাঠফাটা রোদ আবার ঝুম বৃষ্টি তো আছেই। তার ওপর রোজা রেখে কাজের চাপের প্রভাব ত্বকের ওপর পড়ে। কিন্তু আপনার একটু সতর্কতা ত্বককে রাখতে পারে সুন্দর আর ঈদের দিনটির জন্য সতেজ। সিয়াম সাধনার পাশাপাশি এ সময় প্রয়োজন ত্বকের বিশেষ যত্নের। আপনাদের জন্য তাই রইলো রমজানে ত্বকের যত্নের বিশেষ কিছু টিপস।


বককে ডিহাইড্রেশন থেকে বাঁচাতে ইফতার এবং সেহরির মাঝে অন্তত ৮ গ্লাস পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন। শুধু পানি খেতে ভালো না লাগলে ফলের রস খেতে পারেন। তবে কখনো অতিরিক্ত চিনিযুক্ত ড্রিংক খাবেন না, কারণ চিনিজাতীয় খাবার কোলাজেন নষ্ট করে ত্বকে বার্ধক্যের ছাপ ফেলতে পারে।

পানি শূন্যতার কারণে এ সময় ত্বকের আর্দ্রতা কমে গিয়ে প্রাণহীন ও শুষ্ক হয়ে পড়ে। ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম বা লোশন ব্যবহারের মাধ্যমে ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে পারেন।

যাদের ত্বক সাধারণ বা তৈলাক্ত তারা ওয়াটার বেইজড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন। আর যাদের ত্বক শুষ্ক তারা ওয়াক্স বা ইমোলিয়েন্ট সমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন। এগুলো ত্বকের গভীরে আর্দ্রতা জুগিয়ে ত্বক ফেটে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করবে।

রমজান মাসে সব রকমের টোনার জাতীয় প্রসাধন এড়িয়ে চলা উচিত। এই ধরনের প্রসাধনী বেশি ব্যবহারে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যায়।

এসময় ঠোঁট অনেক বেশি ফেটে যায়। রাতে ঘুমাবার আগে ঠোঁটে ভালো করে ভ্যাসলিন বা পেট্রোলিয়াম জেলি দিয়ে ঘুমাতে যাবেন। বেশি শুষ্ক ঠোঁটের যত্নে হালকা গরম নারিকেল তেল ম্যাসাজ করে লাগান।