রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে সরিয়ে নোয়াখালীর যে দ্বীপে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে, সেই ঠেঙ্গারচর এখনও বাসযোগ‌্য নয়। তবে উপকূলীয় বন বিভাগ মনে করছে, সরকার উদ্যোগী হলে স্বল্পসময়ে কৃত্রিমভাবে অন্তত চারটি চ্যালেঞ্জকে মাথায় রেখে ঠেঙ্গারচরকে মানববসতির উপযোগী করা যায়।


নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার কাছে মেঘনার মোহনায় একটি বিরান দ্বীপ ঠেঙ্গারচর। নানা প্রতিকূলতার কারণে এখনও সেখানে স্থায়ী কিংবা অস্থায়ী কোনো মানববসতি গড়ে ওঠেনি বলে বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রায় ৫ হাজার একর আয়তনের ঠেঙ্গারচরকে সংরক্ষিত বনাঞ্চল এলাকা ঘোষণা করা হয় ২০১৩ সালে। ইঞ্জিনচালিত নৌযান ছাড়া সেখানে যাতায়াতের কোনো সুযোগ নেই। হাতিয়া থেকে এ দ্বীপের দূরত্ব আনুমানিক ১৮ থেকে ২০ কিলোমিটার। হাতিয়া থেকে যেতে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে।

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীরা গত কয়েক দশক ধরে কক্সবাজারে শরণার্থীশিবিরে অবস্থান করছে, বাইরেও আছে অনেকে। সব মিলিয়ে এই সংখ্যা ৫ লাখের বেশি বলে সরকারি কর্মকর্তাদের ভাষ্য।

এই রোহিঙ্গাদের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন্স দ্বীপ ঘিরে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশাল সংখ্যক এই শরণার্থীকে অন্তরায় হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

তাই রোহিঙ্গাদের ঠেঙ্গারচরে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে। কক্সবাজারে গাদাগাদি করে থাকা রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণেই সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে চিঠি চালাচালির মধ্যে নোয়াখালীর উপকূলীয় বন বিভাগের নলচিরা রেঞ্জ কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন ভূঁঞা ঊধর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন, তাতে বলা হয় যে ঠেঙ্গারচর ‘এখনও মানব বসবাসের উপযোগী হয়নি’।

এ ক্ষেত্রে পানীয় জলের কোনো উৎস না থাকা, দ্বীপটির প্রতিনিয়ত জোয়ার-ভাটায় ডুবে যাওয়া, দ্বীপের অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থানটি এখনও স্থায়ী না হওয়া, পাড় থেকে নেমে উঁচু স্থানে যেতে হাঁটু সমান কাদার স্তর এবং নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগকে কারণ দেখান রেঞ্জ কর্মকর্তা।

নোয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আমির হোসেন চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ‘কক্সবাজার জেলায় বসবাসরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নোয়াখালী জেলার চরাঞ্চলে স্থানান্তর’ বিষয়ে উপকূলীয় বন বিভাগের মতামত অধিদপ্তরে পাঠিয়েছেন তিনি।

ঠেঙ্গারচরের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এখনও এই চরে কোনো মানুষ নেই। এখনকার প্রধান সমস্যা- ঝড় ও জ্বলোচ্ছ্বাস, জোয়ারের পানি, বেড়িবাঁধ, স্থাপনা, পানীয় জল। চরে মানববসতি গড়তে হলে এখানে সমস্যাগুলোর সমাধান করেই করতে হবে।’

তিনি জানান, প্রাকৃতিকভাবে চরটি গড়ে উঠতে বা মানববসতির উপযোগী হতে ১৫-২০ বছর লাগবে। কৃত্রিমভাবে প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলো শেষ করতে কয়েক বছর লাগতে পারে।

প্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ সফিউল আলম চৌধুরী শুক্রবার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের সরাতে সরকারের সিদ্ধান্ত হলে চরকে উপযোগী করতে যা দরকার তা করতে হবে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আমাদের অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করব। সেক্ষেত্রে যেসব অসুবিধা রয়েছে যেমন-পানীয় জল, বেড়িবাঁধ, অবকাঠামোগত স্থাপনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা তা নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি জানান, উপকূলীয় এলাকায় বন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে যে ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া দরকার তা করা হবে। সেই সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগে অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাতে কাজ করবে।

নোয়াখালী উপকুলীয় বন বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন অধিদপ্তরে এসে থাকতে পারে বলে জানান প্রধান বন সংরক্ষক।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানিয়েছিলেন, রোহিঙ্গাদের নতুন আবাস গড়ে তুলতে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ঠেঙ্গারচরের অবস্থা বর্ণনা করে হাতিয়া দ্বীপের ঘাসিয়ার চরকে বিকল্প হিসেবে গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয় রেঞ্জ কর্মকর্তার প্রতিবেদনে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাবে না। আর খালেদা জিয়াকে ছাড়া কোনো নির্বাচনও হবে না। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার অধীনেই যদি বিএনপি নির্বাচনে যেত, তাহলে সেটা ২০১৪ সালেই যাওয়া যেত। পাঁচ বছর পরে কেন যাবে?


আজ শনিবার রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন গয়েশ্বর। জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানান গয়েশ্বর।

বিএনপি প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা প্রস্তাব করবে—গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন খবরের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘শেখ হাসিনার অধীনে যদি নির্বাচনেই যাব, তাহলে ২০১৪ সালেই নির্বাচনে যেতে পারতাম। তাহলে পাঁচ বছর পরে যাব কেন?’

গয়েশ্বর বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা নিয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পরিষদ এখনো বৈঠক করেনি। দলের মধ্যে নানা মতের মানুষ আছেন। পত্রিকার খবর নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে চান না। বিএনপি দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। এখনো নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়নি।

খালেদা জিয়ার জন্য নির্বাচন থেমে থাকবে না—আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের জবাবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যাননি। আগামী নির্বাচনও ৫ জানুয়ারির মতো হলে সে নির্বাচনেও ভোটাররা যাবেন না। এ ধরনের নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যদি টিকে থাকতে চাইলে থাকুক। তবে খালেদা জিয়া ছাড়া কোনো নির্বাচন এ দেশে হবে না।

আরেক প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে সরকার। এটা উদ্দেশ্যবিহীন মামলা নয়। খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার জন্য। বিএনপি এসব মামলা আদালতের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও মোকাবিলা করবে।

‘আসিলে এ ভাঙা ঘরে, কে মোর রাঙা অতিথি’ স্লোগানে রংপুরে গতকাল থেকে দুই দিনব্যাপী নজরুল উৎসব শুরু হয়েছে। 

দুখু মিয়া সংঘের আয়োজনে এ উৎসব উপলক্ষে রংপুর টাউন হলে সকাল নয়টা থেকে দিনভর আবৃত্তি, সংগীত, চিত্রাঙ্কন ও নৃত্য বিষয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে রংপুর টাউন হল মিলনায়তনে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আশরাফুল আলম আল-আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক সায়েদ মোস্তফা কামাল। 

বিশেষ অতিথি ছিলেন রংপুর নাট্যকেন্দ্রের সভাপতি কাজী মো. জুননুন। প্রধান আলোচক ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রিষিন পরিমল। আজ বিকেলে রংপুর টাউন হলে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।